মস্তিষ্কের ধমনীর রক্ত জমাট হওয়া হল - সেরিব্রাল থ্রোম্বোসিস। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ধমনীর মধ্যে কোলেস্টরল ও চর্বি জমে ধমনীর ভিতরের অংশ সরু হয়ে যায়। তখন রক্ত সরবরাহ কমে যায়। আবার, কোন প্রকার মানসিক উত্তেজনায় মস্তিষ্ক উত্তেজিত হলে সেখানে রক্তপ্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে সরু রক্তনালী দিয়ে বেশী রক্ত প্রবাহিত হতে গিয়ে রক্ত বাধাপ্রাপ্ত হয়, অথবা কোন শারীরিক আঘাত জনিত কারণে রক্তজমাট বেধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনিভাবে হঠাৎ যখন মস্তিষ্কের ধমনীর পথে রক্ত চলাচল
করতে না পেরে রক্ত জমাট হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়, তখন একেই সেরিব্রাল থ্রোম্বোসিস বলে। এতে মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ হলে রোগীর হঠাৎ মৃত্যু হয়ে থাকে, অথবা, রক্তজমাট বেঁধে রোগী প্যারালাইস হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে নেয়।
কাদের হয়ঃ
১। সাধারণত বয়স ৪০ এর বেশী হলে সম্ভাবনা থাকে।
২। যে কোন বয়সের যে কোন ব্যক্তি অতিমাত্রায় রেগে গিয়ে মানসিকভাবে উত্তেজিত হলে হতে পারে।
২। আক্রান্ত ব্যক্তির উচ্চরক্তচাপ, মাথাব্যথা বা ক্রোধের ইতিহাস পাওয়া যায়।
কেন হয় ?
১। দুঃখ, কষ্ট, রাগ বা অভিমান থেকে মানসিকভাবে অতিমাত্রায় উত্তেজিত হলে।
২। নিয়মিত শরীর চর্চা না করলে।
৩। চর্বিযুক্ত খাবার বেশী খেলে।
৪। রক্তের চর্বি ও কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রিত না থাকলে।
৫। অধিক পরিমাণে মাংস খাবার অভ্যাস থাকলে, বা অন্য কোন কারণে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে হতে পারে।
লক্ষণঃ
১। রোগী উত্তেজিত হয়ে হঠাৎ কথা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা জোরে শব্দ করতে না পারা।
২। জিহ্বা নাড়াতে পারে না বা কম পারে। জিহ্বা ভার ভার লাগে।
৩। সমস্ত শরীর বা কোন অঙ্গ ভার ভার লাগে। কম অনুভূতি বা অনুভূতিহীন হতে পারে।
৪। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ বা সম্পূর্ণ ডান / বাম অংশ প্যারালাইস হয়ে যেতে পারে।
৫। রোগীর মাথাব্যথা থাকতে পারে বা মাথায় যন্ত্রণা থাকতে পারে। মাথা ভার ভার লাগে।
৬। রোগী নিজে নিজে দুই হাত, দুই পা দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে উত্তোলন ও হাটাহাটি করতে পারবে না।
৭। রোগীকে "অ" "আ" "ই" এই তিনটি উচ্চারন করতে বললে, তার মুখের ও ঠোঁটের সংকোচন অ প্রসারণ স্বাভাবিক হবে না, টেনে ধরার মত লাগবে এবং তা দেখে বুঝা যাবে।
চিকিৎসা পরামর্শঃ
সমস্যা দেখা দেয়া মাত্রই দেরী না করে। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। শ্বাসকষ্ট থাকলে অক্সিজেন দিতে হবে।
রোগী
খারাপ অবস্থা হবার আগেই বা সুস্থ হয়ে বাসায় আসার পর, রোগীর খাবার এর বিষয়ে
অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। রক্তের কোলেস্টরল ও চর্বি কমানোর ব্যবস্থা নিতে
হবে। ঘরোয়া হোম রেমিডি খেয়ে এই রোগের আধিক্য কমানো সম্ভব। এর জন্য পুষ্টি
বিশেষজ্ঞ বা ডায়েট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার।
allmedicin.com এ রক্তের কোলেস্টরল ও চর্বি কমানোর নির্ভরযোগ্য ঔষধ আছে। আমাদের ই-ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে সেবন করতে পারেন।
সবচেয়ে বড় কথা হল, এই ধরনের রোগিকে খুব ভালভাবে মানসিক সাপোর্ট দিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে পরবর্তীতে সম্পুর্ণ প্যারালাইস বা মৃত্যুবরণ করতে পারে।