ধাতু দৌর্বল্য/স্থলন, শুক্র ক্ষরণ
[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 59 বার ]
Category : Genital, Conjugal Life
এর অপর নাম ধাতু স্থলন বা শুক্রক্ষরণ। দিনে বা রাতে নিদ্রিত বা জাগ্রত অবস্থায় অনিচ্ছাসত্বে বা অজান্তে বীর্য্যপাত হলেই তাকে ধাতু স্থলন বা ধাতু দৌর্বল্য বা শুক্র ক্ষরণ বা স্পার্মাটোরিয়া বলে।
কারণঃ
এই ব্যাধি সঙ্গদোষে বা নিজ দোষেই উৎপন্ন হয়। যৌবনের অপরিমিত ইন্দ্রিয় চালনা করাই এই রোগের প্রধান কারণ। অত্যাধিক স্ত্রী সহবাসের ফলে বা অনৈসর্গিক উপায়ে মৈথুনাদি করার পর ধাতু বা শুক্র তরল হয়ে যায় এবং পুং অঙ্গের শিরা উপশিরা শিথিল অর্থাৎ, ঢিলা হয়ে যায়, ফলে বীর্য্য বা শুক্র ধারনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
সামান্য উত্তেজনাতেই বীর্য্যপাত বা শুক্রক্ষরণ হয়ে যায়। নিদ্রিত বা জাগ্রত অবস্থায় মানসিক কল্পনাতেই শুক্র ক্ষরণ হয়ে যায়। অস্লীল বই বা ছবি দেখা এর একটি কারণ। মস্তিষ্কের যে অংশ বিপরীত লিঙ্গের ছোঁয়ায় যৌন উত্তেজনা তৈরী করে, অস্লীল বই বা ছবি দেখলে সেই অংশ উত্তেজনা তৈরী করতে করতে এক সময় তার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে একসময় সামান্য চিন্তা ভাবনা বা উত্তেজনাতেই বীর্য্যপাত হয়ে যায়। তখন একে ধাতু দৌর্বল্য বলে। এর সথিক চিকিৎসা না হলে পরবর্তীতে দেখা যায় স্ত্রী লোকের সাথে থাকলেও যৌন উত্তেজনা তৈরী হয় না। তখন তা পুং-শিথিলতা রোগ বলে গণ্য হয়। অজীর্ণ ও কৃমি হতেও এই রোগ তৈরী হয়।
লক্ষণঃ
পুরুষাঙ্গ ক্ষুদ্র হয়। সামান্য কারণেই উত্তেজিত হয়, স্ত্রীলোক দর্শন বা স্ত্রী চিন্তা করলে বীর্য্যপাত হয় বা শুক্র ক্ষরণ হয়। বীর্য্য এত পাতলা হয় যে, জলের মত তরল। শুক্রকীট বিহীন হয়ে যায়। পরে কেবল প্রস্টেট গ্রন্থির রস বের হয়। কিছুদিন পরে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে রতিশক্তিহীন হয়ে পড়ে, পুরুষাঙ্গ প্রায়ই উত্তেজিত হয় না, যদিও উত্তেজিত হয়, তবে শীঘ্রই শিথিল হয়ে পড়ে। রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। হজমের ব্যঘাত ঘটে। তার সাথে অম্ল, অজীর্ণ, উদরাময়, পুরাতন আমাশয়, কোষ্ঠবদ্ধতা প্রভৃতি হয়। উৎসাহ উদ্দামহীন হয়ে পরে। মেজাজ খিটখিটে হয়। মনে ভয় হয়। সন্দেহগ্রস্থ হয়। দৃষ্টিশক্তির অভাব হয়। অল্প বয়সেই বৃদ্ধের মত দেখায়। প্রস্রাব ও পায়খানার শেষেও কখনও কখনও অসাড়ে বীর্য্যপাত হয়।