শরীরের স্থানে স্থানে চাপড়া চাপড়া হয়ে ফুলে উঠে, চুলকায়, জ্বালা করে, গায়ে বিছুটি লাগলে যেমন হয় এতেও সেই প্রকারের সমস্ত লক্ষণ প্রকাশ পায়। সাধারণ আমবাত কয়েক মিনিটে আপনা হতেই মিলিয়ে যায়। কোন কোন রোগ দুই একদিন থাকিয়াও রোগীকে কশট দিতে পারে।
শরীরের যে কোন যায়গায় চামড়ার উপরে লাল বর্ণের চাকা হয়ে ফুলে উঠে, এর নাম Urticaria বা আমবাত। এটি খুব চুলকায়। চুলকানের পর জ্বালা করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বেশী পরিমাণে এই ইরাপশন দেখা দেয়। ২-৩ ঘন্টার মধ্যে এই ইরপশন মিলিয়ে যায় এবং অন্য এক গুচ্ছ অন্যত্র দেখা যায়। সাধারণতঃ শরীরের কাপড় খুলে ফেললে অধিক চুলকায় এবং ইরাপসন বের হয়। জানা ও অজানা অনেক কারণেই হতে পারে। সাধারণতঃ এলার্জিক কারণেই বেশী হয়ে থাকে। এক একজনের এক এক ধরনের খাদ্যে এলার্জি দেখা যায়।
কারণঃ
১। পচা মাছ-মাংস খেলে।
২। অধিক পরিমাণে গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, হাঁসের ডিম, বেগুন, ডাল, ইলিশ মাছ, চিংড়ী মাছ, পুঁইশাক, কাঁকড়া, পাকা কলা ইত্যাদি খেলে।
৩। পেটে কৃমি, আমাশয়, ফাইলেরিয়া প্রভৃতি থাকলে।
৪। কোন ঔষধে রিয়াকশন হলে।
৫। কোন কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি কামড়ালে।
চিকিৎসা পরামর্শঃ
যে সকল খাবারে এলার্জী হয় তা এড়িয়ে চলতে হবে। হাতের কাছে এলার্জির ঔষধ বিশেষ করে এন্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট থাকলে সেবন করে খারাপ অবস্থা থেকে সাময়িক রেহাই পাওয়া যেতে পারে। খুব বেশী সমস্যা হলে - হিস্টাসিন, ফেনাডিন একটি ঔষধ সেবন করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ভাল হবে। কেননা, রোগির শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় সমস্ত শরীর ফুলে যেতে পারে। তাই বাড়িতে চিকিৎসা করানোর চিন্তা করাই যাবে না।
কিছু আমবাত আছে, খারাপ অবস্থা তৈরী করে না তবে রোগী কে চুলকানিতে কষ্ট দেয়। এসব ক্ষেত্রে উপযুক্ত চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করাতে হবে। এই ধরনের আমবাত হোমিও চিকিৎসায় স্থায়ীভাবে আরোগ্য লাভ করে।