ডায়াবেটিক - ডায়াবেটিস

[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 107 বার ]

Category : blood, Diabetics


( ডায়াবেটিক/ডায়াবেটিস দুটি উচ্চারণই সঠিক )
ডায়াবেটিস এর অপর নাম বহুমূত্র বলতে বুঝায় বার বার প্রস্রাব। এবং আরেকটি নাম মধুমেহ বলতে প্রস্রাবে মধু বা চিনি নিঃসরন বুঝায়। সাধারণতঃ এই রোগে প্রস্রাব খুব বেশী হয় বলে একে বহুমূত্র বলে।

ডায়াবেটিস প্রধানত দুই প্রকারঃ
১। ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস
২। ডায়াবেটিস মেলিটাস

১। ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস -   এটি মূলত কিডনীর জন্য বহুমূত্র। এতে বার বার প্রস্রাব হলেও প্রস্রাবে সুগার থাকে না। এই রোগে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ অত্যন্ত বেশী হয়। পিটুইটারী গ্ল্যান্ডে কোন টিউমার হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হয়। এই রোগে এলোপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থায় তেমন উল্লেখযোগ্য কোন ঔষধ নাই। আয়ুরবেদিক ও হোমিও চিকিৎসায় আরোগ্য সম্ভব।

২। ডায়াবেটিস মেলিটাস      -   এই ডায়াবেটিস এ প্রস্রাবের সাথে সুগার বেরহয়।

আমাদের খাবার হতে ( পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ) কিছুঅংশ গ্লুকোজে
রুপান্তরিত হয়ে পাচক রসের সাহায্যে রক্তে মিশে এবং বাকি অংশ গ্লাইকোজেন
রূপে যকৃতে ( কলিজা, লিভার ) যায়। উক্ত গ্লাইকোজেন পূনরায় গ্লুকোজ হয়ে
রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে। কিছু গ্লুকোজ চর্বি হয়ে চামড়ার নিচে ও অন্যান্য
স্থানে জমা হয়।
গ্লুকোজ ও রক্ত কিডনীর ছাঁকনির মধ্যে দিয়ে
পার হয়। ছাঁকনির সময় কিডনীর ঝিল্লী দ্বারা গ্লুকোজ পুনরায় শোষিত হয়ে
সম্পূর্ণ বা আংশিক রকে ফিরে আসে। Insulin দ্বারা গ্লাইকোজেন দগ্ধ হয়ে শরীরে
শক্তি বৃদ্ধি করে। অগ্নাশয় গ্ল্যান্ড হতে ইনসুলিন নিঃসরন হয় এবং অবশিষ্ট
গ্লুকোজ অম্লজানের সহযোগে দগ্ধীভূত হয়ে অঙ্গার দ্বি-অম্লজান ও পানিতে পরিণত
হয় যা শরীর হতে দূষিত পদার্থ রূপে নির্গত হয়। এই দহনক্রিয়া দেহের তাপ ও
অতিরিক্ত শক্তি উৎপন্ন করে ফলে আমাদের চলাফেরা ও কাজ-কর্ম করা সম্ভব হয়।

পাকস্থলীর
পিছনে অগ্নাশয় অবস্থিত। এর একজাতীয় কোষ হতে ক্ষরিত রস ডিওডেনামে যায় এবং
এই রসই শর্করা কে গ্লুকোজে পরিণত করে । অপর জাতীয়  কোষকে Islets of
Langrhans ( আইলেটস অব লেঙ্গারহ্যানস ) বলে। তা হতে ক্ষরিত রসের নাম
ইনসুলিন ( Insulin )। কোন কারনে ইনসুলিন কম উৎপন্ন হলে বা সরবরাহ ঠিকমত না
হলে গ্লুকোজ দগ্ধীভূত হতে না পেরে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। তখন তাকে
ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে।

স্বাভাবিক ভাবে দেহের রক্তে শর্করা থাকে, কিন্তু মূত্রে থাকে না। ডায়াবেটিক হলে শর্করা ( Glucose ) প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে গেলে শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। তাছাড়া, প্রস্রাবের আপেক্ষিক গুরুত্ব ( Specific Gravity ) ১০১০-১০২০-১০২৬। ডায়াবেটিক হলে ১০৩০-১০৫০ হয়। এমনকি কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে ১০৬০-১০৭০ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পায়। গ্লুকোজ ঠিকমত দেহে শোষন হয় না। Pancreas এ Islets of Langerhans কোষগুলির কর্মক্ষমতা কমে গেলে Insulin নিঃসরন কম হয়। তখন দেহে গ্লুকোজ গ্রহন করতে পারে না ফলে রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পায়, একেই ডায়াবেটিক বলে। সাধারনত মধ্যবয়সী, অলস, মেদ প্রধান লোকদের এই রোগ বেশী হয়। যারা শারীরিক পরিশ্রম করে না কিন্তু মানসিক পরিশ্রম বেশী করে তাদের মধ্যে এই রোগের সম্ভাবনা বেশী থাকে। উচ্চ মধ্যবিত্তব ধনী বা বিলাসী পরিবারে এই রোগ বেশী হতে দেখা যায়। বংশগতভাবে এই রোগের সম্ভাবনা থাকে বলে বিশেষজ্ঞগন মনে করেন। তবে সারকথা হল পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে বা অন্য যে কোন ভাবেই হোক অগ্নাশয় ( তিল্লি ) বা প্যানক্রিস এর কর্মক্ষমতা কমলে ডায়াবেটিক হয়।

আমাদের কিডনীর একটা রেনাল থ্রেসহোল্ডভ্যালু - অর্থাৎ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। স্বাভাবিকভাবে প্রতি ১০০ সিসি রক্তে ৮০-১২০ মিলিগ্রাম সুগার থাকে। অথচ প্রতি ১০০ সিসি রক্তে ১৮০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সুগার থাকলেও তা বের হতে দেয় না। যদি প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সুগার কিডনীর ছাঁকনি দিয়ে ১১০/১২০ তেও বের হয়, সেক্ষেত্রে প্রস্রাব পরীক্ষা করে সুগার পাওয়া গেলেও তাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলা হয় না। একে বলা হয় রেনাল-গ্লাইকোসুরিয়া।

আবার ডায়াবেটিস রোগীর কিডনী ছাঁকুনি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় যখন রক্তে চিনির ভাগ ২০০ এর উপরে উঠেও প্রস্রাবের সাথে সুগার যায় না অথচ রক্তে সুগার বৃদ্ধি পায় এই ক্ষেত্রে প্রস্রাবে সুগার না থাকলেও তা ডায়াবেটিস মেলিটাস। ডায়াবেটিস মেলিটাস এ বেশী দিন ভুগতে থাকলে বা ঠিকভাবে চিকিৎসা না হলে এই অবস্থা হয়। অর্থাৎ ডায়াবেটিস মেলিটাসের ক্রণিক অবস্থায় প্রস্রাবে সুগার নাও থাকতে পারে। রোগী প্রস্রাব বার বার নাও করতে পারে। আবার, প্রস্রাবে সুগার বেশী থাকলে বার বার প্রস্রাবের সম্ভাবনা থাকে।

প্রাথমিক লক্ষণঃ
রোগ ধীরে ধীরে শুরু হয়। তখন ঘন ঘন পিপাসা বা ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকে। প্রস্রাব Bendict's Solution দিয়ে টেস্ট টিউবে ফোটালে প্রস্রাবের রং সবুজ, হলুদ, কমলা, বা লাল রং হয়ে থাকে। এতে বুঝা যায় ডায়াবেটিক হয়েছে কিনা ? প্রচন্ড ক্ষুধা হয়। রোগীর পেশী শীর্ণ হতে থাকে, কিছু খেলে তা দেহের কাজে লাগে না প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। দেহের চামড়া খসখসে হয়ে যায়। চুল শুকনা ও পাতলা হয়ে যায়। নখ সহজেই ভেঙ্গে যায়। ঠোঁট শুকনা ও দাঁত ক্ষয় হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা হয়। রোগী বিমর্ষভাবে থাকে। দৃষ্টিশক্তি ও রতিশক্তি হ্রাস পায়। অনেকসময় চুলকানি, ফোঁড়া, ব্রন প্রভৃতি হয়। কখনো কার্বাংকল হয়। অনেক সময় গ্যাংরিন উপসর্গ হয়ে দেখা দেয়। রক্তে এসিটোন ( Acetone ) বেশী হলে রোগী তন্দ্রাচ্ছন্ন বা মুর্ছিত হয়ে পড়ে, একে ডায়াবেটিক কোমা ( Diabetic Coma ) বলে। এতে ও অনেক রোগী মারা যায়।

উপসর্গঃ
১। ডায়াবেটিক কোমা ( সংজ্ঞাহীনতা )
২। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ( চোখের রোগ )
৩। ডায়াবেটিক নেক্রোপ্যাথি ( কিডনী রোগ )
৪। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি ( নার্ভের রোগ, নিউরাইটিস )
৫। ডায়াবেটিক কার্ডিওপ্যাথি ( হৃদরোগ, ধমনীর রোগ )
৬। বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ - যক্ষা, কার্বাঙ্কল, গ্যাংগ্রিন
৭। ছত্রাক সংক্রমন

কারণঃ
১। অত্যাধিক চিন্তা বা মানসিক পরিশ্রম এবং তার বিপরীতে শারীরিক পরিশ্রম কম করলে বা না করলে।
২। অগ্নাশয়ে কোন রোগ থাকলে বা দুর্বল হলে ইনসুলিন কম উৎপন্ন হয়, তখন ডায়াবেটিস হতে পারে।
৩। আহারে সংযমের অভাব থেকেও হতে পারে।

লক্ষণঃ
১। ঘন ঘন ও বেশী পরিমাণে প্রস্রাব।
২। অতিরিক্ত পানি পিপাসা হয়।
৩। প্রস্রাবের সাথে সুগার বা চিনি যায়।
৪। অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব হয়।
৫। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন সত্বেও ওজন হ্রাস পায়।
৬। যৌন ক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে।
৭। বহি যোনী ও যোনীর প্রদাহ হয়।
৮। রোগী শুকিয়ে যায়, ওজন কমে যায় ও রোগী দুর্বল হয়।
৯। অসাড়ে মুত্র ত্যাগ হয়।
১০। রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পায়।
১১। প্রস্রাব পরীক্ষায় আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশী এবং সুগার পাওয়া যায়।

জটিলতাঃ
১। রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সুগার উৎপন্ন হলে এবং দেহ ঐ চিনি কাজে লাগাতে না পারলে শরীরের চর্বি হজম করতে শুরু করে এবং রক্তে এসিটোন নামক পদার্থ সৃষ্টি হয়ে রোগী অজ্ঞান হয়। এই অবস্থায় রোগীর বাঁচার আশা কম।
২। ডায়াবেটিস রোগীর রক্ত চলাচলের শিরাগুলি অকেজো হয়ে পায়ে রক্ত চলাচল কম হয়। তখন পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়।
৩। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগতে থাকলে শরীর দুর্বল হয়। ফলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে ফোঁড়া সৃষ্টি করে। এর নাম কার্বাঙ্কল।
৪। ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়।
৫। চোখের ক্ষুদ্র শিরাগুল খারাপ হয় এবং অক্ষিপট নষ্ট হয়।
৬। দুর্বলতার জন্য টি.বি. - তে আক্রান্ত হয়।
৭। দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণে না থেকে উচ্চমাত্রায় সুগার থাকলে হার্ট ও ফুসফুসে শোথ দেখা দিয়ে এজমা ও ব্রাডিকার্ডিয়া দেখা দেয়। এ অবস্থায় ডায়াবেটিস দ্রুত নিয়ন্ত্রনে না আনলে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়।
৮। রোগীদের আর্থিক সমস্যা বা ইচ্ছাকৃত ভাবে চিকিৎসা অবহেলা জটিলতা তৈরী করে। এবং রোগী নানাবিধ শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়।

ডায়াবেটিস চিকিৎসার উদ্দেশ্যঃ
১। রোগ লক্ষণ দূর করা ও উপশম করা।
২। রক্তে শর্করার অস্বাভাবিক উচ্চ মাত্রাকে সংশোধন করা।
৩। প্রস্রাবে উচ্চমাত্রার চিনির বহির্গমন রোধ করা।
৪। দেহের সন্তোষজনক ওজন বজায় রাখা।
৫। ডায়াবেটিসের জটিলতা প্রতিরোধ করা।

চিকিৎসা পদ্ধতিঃ
১। শুধুমাত্র নিয়ম মাফিক নির্দিষ্ট খাবার গ্রহন করা।
২। উপযুক্ত খাদ্য ও রক্তে শর্করা হ্রাসকারী মুখে খাওয়ার ঔষধের সমন্বিত ব্যবহার।
৩। উপযুক্ত খাদ্য ও সুনির্বাচিত ইনসুলিন ইনজেকশন।

চিকিৎসাঃ
১। যে সকল ব্যক্তির সকালে ও বিকালে খালি পেট অবস্থায় প্রস্রাবে সুগার বা গ্লুকোজ খুব সামান্য থাকে তাকে মাইল্ড ডায়াবেটিস বএল। যে সকল মাইল্ড ডায়াবেটিস এর সাথে অন্য কোন রোগ জড়িত নাই, যেমন - কার্বাঙ্কল, গ্যাংগ্রিন, নিউমোনিয়া, যক্ষা ইত্যাদি , সেই সকল রোগীদের খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই আরোগ্য লাভ সম্ভব।
২। প্রস্রাবে ৩% এর বেশী সুগার গেলে এবং ডায়াবেটিসের সাথে অন্য কোন রোগ জড়িত আছে বা নাই, তাদের জন্য খাবার নিয়ন্ত্রণ এবং ট্যাবলেট বা ইনজেকশন বা উভয় ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩। অতিরিক্ত খাবার গ্রহন চলবে না। 

খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসাঃ
১। যাবতীয় মিষ্টান্ন খাওয়া বন্ধ। ভাত বন্ধ রাখতে আপ্রলে ভাল, না পারলে ১ কাপ পরিমান খাবে।
২। ভাতের পরিবর্তে দিনে ৩-৪ ছটাক আটার রুটি দেয়া যেতে পারে।
৩। সকল শাক-সবজি বেশী করে বলে। অনেকে বলে থাকে তিতা জাতীয় বেশী করে খেলে ডায়াবেটিক থাকে না, তাই কেউ কেউ বেশী বেশী পরিমাণে তিতা শাক বা গাছের লতা পাতা বেশী পরিমাণে খেয়ে থাকে, এটা ঠিক নয়। কোন কিছুই পরিমানের বেশী খাওয়া ঠিক না, এতে করে কিডনী সমস্যা হতে পারে।
৪। মাটি নিচের ফসল - আলু, কচু, মুলা, গাজর বাদ দিলে ভাল।
৫। চর্বিযুক্ত মাংস বর্জন করতে হবে। বেশী পরিমাণে মাংস খাওয়া ঠিক না।
৬। প্রতিদিন কিছু ছোট গুড়া মাছ বা ১-২ টুকরা মাছ বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ ভাল।
৭। ঘি মাখন সয়াবিন ইত্যাদি বাদ দিয়ে সরিষার তেলের রান্না ভাল। খুব অল্প পরিমাণে সরিষার তেল দিয়ে রান্না করবে।
৮। ভুনা খাবার এর চেয়ে সহজপাচ্য সরল রান্না ভাল।
৯। প্রতিদিন ১/২-১ পোয়া দুধ খেতে পারে।
১০। মিষ্টি ফল না খাওয়াই ভাল, খেলেও অল্প পরিমানে।

খাদ্য তালিকাঃ
চিনি, আলু, গুড়, মিষ্টি বর্জন করতে হবে। পরিমিত পরিমানে প্রোটিন গ্রহন করতে হবে। ফল ও শাক-সবজি প্রচুর খেতে হবে।
* শর্করা ১০০-১৫০ গ্রাম।
* প্রোটিন ১৫০-২০০ গ্রাম।
* ফ্যাট ৫০ গ্রাম।
*
ছানা, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই প্রভৃতি পরিমিত পরিমানে খেতে হবে। তেল ঘি
কম খাবে। শাক টমেটো প্রচুর খাবে। শসা খাবে প্রচুর। আলু কচু বর্জনীয়।

সকালে
১। চিনিছাড়া চা বা দুধ - ১ কাপ
২। রুটি ৩টি
৩। ডিম ১ টি
৪। শসা সালাদ - ইচ্ছামত।

দুপুরে
১। ভাত - ১ কাপ
২। মাছ বা মাংস - ১ টুকরা
৩। শাক-সবজি - ইচ্ছামত
৪। দই - ১ কাপ

বিকালে
চিনি ছাড়া চা বা দুধ - ১ কাপ
ফল - ১ টি/ ১০০-২০০ গ্রাম
ছানা - ২ আউন্স
নারকেল কোরা - ১ আউন্স

রাতে
রুটি - ২টি 
মাছ-মাংস - ১ টুকরা
শাক-সবজি - ইচ্ছামত

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা
এই
ভাবে নিয়ম মাফিক খাবার খেলে রক্তে চিনি কমে আসবে এবং প্রস্রাবেও চিনি বের
হবে না। রক্তে চিনি বেশী জমা হলে ডুমুর পাতা পিষে ছেকে নিয়ে রস খেলে
অতিরিক্ত চিনি বের হয়ে যায় এবং রক্ত পরিষ্কার হয়। এরপর উপযুক্ত পথ্যাদি
খেতে থাকলে আর চিনি বের হয় না। পিপাসা বেশী হলে চিনি ছাড়া  লেবুর শরবত
উপকার হয়। আমলকী খাওয়া ভাল। গোসলের আগে শরীরে ভালভাবে শরিষার তেল মালিশ
উপকারি। মৃদু ব্যায়াম, হাঁটা, সাতার, সাইকেল চালানো উপকারি। নিয়মিত
প্রস্রাব ও রক্তের সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

এই রোগে ঔষধ ব্যবহার করতে হবে ঠিক, তবে তার সাথে অবশ্যই শর্করা জাতীয়
খাদ্য বেশী করে না খেয়ে সুষম খাদ্য তালিকা মেনে খাবার খেতে হবে। খাদ্যই এই
রোগের অন্যতম চিকিৎসা। ভিটামিন
B-Complex এই রোগের প্রাথমিক অবস্থায় খুবই উপকারি।

Insulin Injection ( ইনসুলিন ইনজেকশন)ঃ এই
ইনজেকশনের কাজ সাময়িক। রক্তে বা প্রস্রাবে বেশী মাত্রার গ্লুকোজ দেখা দিলে
এই ইনজেকশনে রক্তের গ্লুকোজ শরীরে শোষিত হয়। তাই এটা নিয়মিত দেয়া উচিত নয়,
কেননা নিয়মিত দেয়া হলে এর উপর শরীর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন শরীরের
প্রাকৃতিক ইনসুলিন উৎপাদন ব্যহত হয় কমে যায়। কিন্তু বাস্তবিক সত্য হল,
ডায়াবেটিক মানে হল শরীরে প্রাকৃতিক ইনসুলিনের উৎপাদন কমে যাওয়া, বর্তমানে
রোগীরা ডায়াবেটিক এর শুরুতে গুরুত্ব দেয় না। পরে যখন শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন
একেবারেই থাকে না তখন চিকিৎসকের নিকট গেলে কৃত্রিম ইনসুলিন ইনজেকশন দেয়া
ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

***
ডায়াবেটিক ধরা পড়ার শুরু থেকেই রোগী যদি সচেতন হয়ে খাবার ও নিয়ম মাফিক
জীবন যাপন করে তাহলে ডায়াবেটিক এর রোগী আরোগ্য লাভ করতে পারে। এমন অনেক
কেইস হিস্টোরী আছে রোগী সচেতনতায় ডায়াবেটিক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বা
আরোগ্য লাভ করেছেন।


*** ডায়াবেটিস রোগ একেবারে আরোগ্য হয় না। তবে
নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায় এবং সুস্থ থাকা যায়। খাবার
নিয়ন্ত্রণ এই রোগ চিকিৎসার প্রধান অঙ্গ। নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে
তা না হলে নিজের অজান্তে কিডনী বিকল হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে খালি পেটে ( FBS )
ও ভরা পেটে ( RBS ) পরীক্ষা করা প্রয়োজন।


ডায়াবেটিক সম্পর্কে হোমিওপ্যাথ ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস সাহেবের একটি আর্টিকেল এর কিছু অংশ তুলে দেয়া হল। এই লেখার বক্তব্য ও মতামত একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত মতামত, ফলে লেখকের সাথে কেউ একমত হতে পারেন আবার কেউ একমত নাও হতে পারেন। তাই এই লেখার কোন শব্দ বা বাক্য আপনাকে ব্যথিত করলে তার দায় লেখকের এবং আপনার নিজের । এর সাথে allmedicin.com এর কোন দায়বদ্ধতা নাই।

তথাপি, তথ্যগুলো বর্তমান ডিজিটাল জগতে তথ্যের উন্মুক্ততায় ইন্টারনেটে বিভিন্ন মেডিক্যাল জার্নাল এবং বিভিন্ন দেশের বড় বড় এলোপ্যাথি চিকিৎসকের গবেষণা হতে প্রাপ্ত এলোপাথি ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে গবেষণাপত্র ( যেমনঃ রেনিটিডিন, মেট্রোনিডাজল ইত্যাদি ঔষধ সমূহকে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক বলে ঘোষণা দিয়ে, উন্নত দেশসমূহে এই সকল ঔষধ প্রেসক্রাইব ও সেবন নিষিদ্ধ করা হলেও উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশের চিকিৎসক সমাজ এখনো এইগুলো প্রেসক্রাইব করছেন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীসমূহ তা উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন। এই সকল চিকিৎসক ও ফার্মাসী কি এই সকল লেটেস্ট গবেষণাপত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন ? পাশাপাশি
এন্টিবায়োটিক এর রেজিস্ট্যান্স থাকা সত্ত্বেও উক্ত এন্টিবায়োটিক কোন
তথ্যের ভিত্তিকে একই রোগীকে দেয়া হচ্ছে, তা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। আরলিন ৪০০মিগ্রা. ডায়াবেটিক ফুটের জন্য একজন রোগী মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর সেবন করে যাচ্ছেন কি করে ? আমাদের কাছে একজন রোগী এসেছেন ৩ বছর ধরে এক নাগারে খাচ্ছিলেন।
) এবং অসংখ্য হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকের ডায়াবেটিক, ডায়াবেটিক ফুট, কিডনী, এলবুমিনুরিয়া, ইউরিমিয়া সহ অসংখ্য জটিল রোগ যা এলোপ্যাথিতে আরোগ্য হচ্ছে না ইত্যাদি রোগের সফল হোমিও চিকিৎসা আমাদের অনুপ্রানিত করেছে এই আর্টিকেলটি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। কেননা, এই লিখাটি আমাদের মত আপনাদেরও ভাবনার খোরাক যোগাবে।

আমাদের allmedicin.com এর চিকিৎসক টীমের সর্বসম্মতি এই যে, যে কোন রোগে এলোপ্যাথি চিকিৎসায় রোগীকে প্রচুর ঔষধ সেবন করতে হয় যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক, অন্যদিকে হোমিও চিকিৎসায় হোমিও ঔষধে বাস্তবিক ঔষধ খুঁজে পাওয়া যায় না বরং এর পারমানবিক শক্তি রোগ ও রোগীকে আরোগ্য করে তোলে। আমরা এমনো দেখেছি একজন রোগী ২০-৩০ টি এলোপ্যাথি ঔষধ একসঙ্গে সেবন করছেন, এটাকে কীভাবে মেনে নেয়া যায় ? কখনই না। তাই রোগীর জীবনের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই আমরা সেটাই গ্রহন করব।   
-
আর্টিকেলঃ ডায়াবেটিক ও এর এলোপ্যাথি - হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ
লেখকঃ ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
----------------------------------------------------------------------------------

যদিও এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা
ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য বিরাট আলিশান হাসপাতাল তৈরী করে ফেলেছেন
, তথাপি
সত্যি কথা হলো এলোপ্যাথিতে ডায়াবেটিসের কোন চিকিৎসাই নাই। তারা যা করেন অথবা বলা
যায় তারা যা পারেন
, তা হলো ডায়াবেটিসের তীব্রতা বা উৎপাত
কমিয়ে রাখা
, নিয়ন্ত্রণে রাখা। ডায়াবেটিস নির্মুল করা বা
পুরোপুরি ভালো করার ক্ষমতা এলোপ্যাথিক ঔষধের নাই। তবে ডায়াবেটিস সৃষ্টি করার
ক্ষমতা এলোপ্যাথিক ঔষধের আছে। আপনি যদি ইন্টারনেটে একটু খোঁজাখুঁজি করেন
, তবে এমন হাজারো গবেষণা রিপোর্টের সন্ধান পাবেন, যাতে নিরপেক্ষ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, টিকা/ ভ্যাকসিন (vaccine) নেওয়ার কারণেই মানুষ
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। যখন থেকে মানুষকে পাইকারী হারে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে
,
তখন থেকেই পাইকারী হারে ডায়াবেটিস হওয়া শুরু হয়েছে। আগে জন্মের
পর থেকে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হতো আর এখন শিশুরা মায়ের পেটে থাকতেই তাদের
গর্ভধারীনী মাকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকারান্তরে শিশুদেরকেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে
মায়ের পেট থেকেই শিশুরা বিষাক্ত দেহ-মন নিয়ে দুনিয়ায় আগমণ করছে। তাই ইদানীং
শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।



 



ভ্যাকসিন/ টিকা (vaccine) ছাড়াও
ভয়ঙ্কর হাই-পাওয়ারের (
?) ক্ষতিকর সব এন্টিবায়োটিক,
সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের শারীরিক আঘাত, ঘনিষ্ট
কারো মৃত্যু বা পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে বড় ধরণের মানসিক আঘাত
ইত্যাদির কুপ্রভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে
, রোগ
প্রতিরোধ শক্তির (
immune system) বারোটা বেজে যায় ;
ফলস্রুতিতে মানুষ ডায়াবেটিসের মতো জঘন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
দুঃখের সাথে বলতে হয় যে
, ডায়াবেটিস আসলে কোন রোগ নয় বরং
এটি একটি বিরাট লাভজনক ব্যবসা। দিন-রাতের অধিকাংশ সময় শুয়ে-বসে কাটানো শহরের অলস
(এবং অন্যদিকে অতিমাত্রায় টিকা/ভ্যাকসিন ভক্ত) মানুষদের মধ্যে এই রোগ মহামারী
আকারে দেখা না দিলে এ যুগের ডাক্তারদের পক্ষে এতো সহজে বাড়ি-গাড়ি-ব্যাংক ব্যালেন্স
করা খুবই কঠিন হতো। ডায়াবেটিস থেকে প্রথমত সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় ডায়াবেটিসের ঔষধ
এবং ইনজেকশান উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। কারণ ডায়াবেটিসের রোগীরা প্রায় সবাই কোন না
কোন ঔষধ-ইনজেকশন নিয়ে থাকেন। ঔষধ কোম্পানীর মালিক এবং তাদের সমর্থক ডাক্তাররা
যোগসাজস করে ঘোষণা করেছে যে
, রক্তে সুগারের মাত্রা ছয়ের
চাইতে বেশী হলেই বিপদ।



 



 আপনাকে ঔষধ খেতে হবে, ইনজেকশন
নিতে হবে
, নিয়মিত টেস্ট করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে
এগুলো হলো মাল কামানোর ব্যবসায়িক পলিসি
, ধাপ্পাবাজি।
বাস্তবে দেখা যায়
, কারো কারো সুগার ছয়-সাতে উঠলেই নানা
রকম সমস্যা দেখা দেয় আবার কেউ কেউ দশ-বারো নিয়েও স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। একেকজন
মানুষের শারীরিক গঠন একেক রকম আর তাই একই থিওরী সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য
হতে পারে না। দ্বিতীয়ত ডায়াবেটিস থেকে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় প্যাথলজীষ্টরা
,
ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিকরা, এসব
টেস্টের মেশিন-পত্র এবং রিয়েজেন্ট প্রস্তুতকারী কোম্পানিরা। কারণ ডায়াবেটিসের
রোগীরা সাধারণত ঘনঘন বিভিন্ন প্যাথলজীক্যাল টেস্ট করে থাকে। তৃতীয়ত সবচেয়ে বেশী
লাভবান হয় ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। চতুর্থত সবচেয়ে বেশী লাভবান
হয় কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞরা (
urologist), কারণ ডায়াবেটিসের
রোগীদের সাধারণত কিডনীর রোগ বেশী হয়ে থাকে। পঞ্চমত সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় চক্ষু
বিশেষজ্ঞরা (
oculist), কারণ ডায়াবেটিসের রোগীদের চোখের
সমস্যা লেগেই থাকে। চর্ম-যৌন বিশেষজ্ঞরাও বেশ লাভবান হয়
, কারণ
ডায়াবেটিসের রোগীদের অনেকেরই যৌন দুর্বলতা/ ধ্বজভঙ্গ দেখা দিয়ে থাকে।



 



 ডায়াবেটিস থেকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাও
(
cardiologist) কম লাভবান হন না, যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীদের
হার্টের সমস্যা বেশী হতে দেখা যায়। এমনকি হরমোন বিশেষজ্ঞরাও বেশুমার রোগী পেয়ে
থাকেন যারা দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিসে ভোগছেন তাদের মধ্যে থেকে। সার্জনরাও প্রচুর
লাভবান হয়ে থাকেন
, কেননা ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায়ই
হাত-পায়ে গ্যাংগ্রিন (
gangrene), মারাত্মক আলসার (ulceration)
ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ (neurologist)
এবং মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরাও (psychiatrist) ডায়াবেটিস থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন, কেননা
দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভোগলে স্মায়ুঘটিত রোগ এবং মানসিক রোগ দেখা দিবেই। ডায়াবেটিসের
কারণে কবিরাজরাও যথেষ্ট লাভবান হয়
, কেননা অনেক রোগীরই
কবিরাজি-ইউনানী-আয়ুর্বেদী চিকিৎসার প্রতি ভীষণ ভক্তি দেখা যায়। ডায়াবেটিসের কারণে
হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররাও বেশ লাভবান হয়
, কারণ অনেকেরই
হোমিও ঔষধের প্রতি অন্ধভক্তি আছে। তাছাড়া অনেকে দশ-বিশ বছর প্রচলিত চিকিৎসা করেও
ডায়াবেটিসমুক্ত হতে না পারার কারণে হোমিও চিকিৎসা শুরু করে দেয়।



 



ডায়াবেটিসের প্রচলিত
এলোপ্যাথিক চিকিৎসার বিষয়টি গত ৮০ বছরে ধীরে ধীরে সারাবিশ্বের মানুষদের মধ্যে
এমনভাবে শিকর গেড়েছে যে
,
এটি বতর্মানে মানুষের কাছে ধর্ম বিশ্বাসে (religion) পরিণত হয়েছে। আর কোন একটি বিষয় যখন মানুষের কাছে অন্ধবিশ্বাসে পরিণত হয়,
তখন তাকে আর যুক্তি-তর্ক দিয়ে বুঝানো যায় না। ঔষধ কোম্পানীগুলোর
নীতি হলো শিশু থেকে বুড়ো পযর্ন্ত সবাইকে ঔষধ খাওয়াতে হবে
, ভ্যাকসিন দিতে হবে। যেভাবেই হোক বছর বছর লাভের মাত্রা বাড়াতে হবে।
চিকিৎসার নামে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে সারাজীবনের জন্য তাদের ওপর নিভরর্শীল করে
রাখতে হবে। ডায়াবেটিসের সংক্রান্ত সমস্ত গবেষণায় এসব ঔষধ কোম্পানী অর্থ যোগান দেয়
এবং এভাবে তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানকে নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিচালিত করে থাকে। ডাক্তাররা
মেডিক্যাল কলেজে কি শিখবে এবং কিভাবে ডাক্তারী করবে
, তার
সবই এসব ঔষধ কোম্পানীর পরিকল্পনা মতো হয়ে থাকে। বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানীগুলোর এই
পৈশাচিক লোভের শিকারে পরিণত হয়ে বহুল প্রচলিত এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ
মানবজাতির জন্য গযবে পরিণত হয়েছে।



 



 আপনার ডাক্তার কখনও আপনাকে
বলবে না যে
, রক্ত সঞ্চয়জনিত হৃদরোগ (ischaemic heart diseases), স্মায়ুঘটিত হার্ট ফেইলার (neuropathic heart failure), করোনারি হৃদরোগ (coronary heart diseases), মেদভূড়ি
সমস্যা (
obesity), রক্তনালীতে চর্‌বি জমা (atherosclerosis),
উচ্চ রক্তচাপ (elevated blood pressure), কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি (elevated cholesterol), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি (elevated triglycerides), যৌন অক্ষমতা (impotence), চোখের রেটিনার রোগ (retinopathy),
কিডনী ফেইলুর (renal failure), লিভার
ড্যামেজ (
liver failure), ডিম্বাশয়ের টিউমার (polycystic
ovary syndrome), রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি (elevated
blood sugar), ক্যানডিডা সংক্রমণ (systemic candida), ত্রুটিপূর্ণ শ্বেতসার বিপাক (impaired carbohydrate
metabolism), ঘা শুকাতে দেরি হওয়া (poor wound healing), ত্রুটিপূর্ণ চর্‌বি বিপাক (impaired fat metabolism), প্রান্তীয় স্মায়বিক রোগ (peripheral neuropathy) ইত্যাদিকে এক সময় ডায়াবেটিসেরই লক্ষণ মনে করা হতো। আপনি যদি কোন
এলোপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে ডায়াবেটিসের নিমূর্ল বা ডায়াবেটিস থেকে ১০০ ভাগ মুক্তির
ব্যাপারে জানতে চান
, তবে তিনি বিরক্ত হবেন। কারণ তাকে
শিক্ষা দেওয়া হয়েছে ডায়াবেটিসের
“চিকিৎসা আছে কিন্তু কোন স্থায়ী মুক্তি (বা
নিরাময়) নাই
”। অথচ ডায়াবেটিস
পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য (
curable)
একটি রোগ। কিন্তু এজন্য (ডায়াবেটিস) রোগ এবং রোগী দুটোর চিকিৎসা
করতে হবে একত্রে বা সামগ্রিকভাবে (
holistic)
। কিন্তু বতর্মানে
প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের সুগারের চিকিৎসা করেন একজন বিশেষজ্ঞ
, খাদ্যাভাসের
চিকিৎসা করেন আরেকজন
, চোখের জটিলতার চিকিৎসা করেন একজন,
কিডনীর জটিলতার চিকিৎসা করেন আরেকজন, লিভারের
সমস্যার চিকিৎসা করেন একজন
, হার্টের পীড়ার চিকিৎসা করেন
আরেকজন
, চর্মরোগের চিকিৎসা করেন একজন, রক্তের অসুখের চিকিৎসা করেন আরেকজন ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটকথা, মরা গরুর লাশ নিয়ে যেমন শুকুনদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়েও বিশেষজ্ঞদের (?) মধ্যে তেমনটা লক্ষ্য করা যায়।



 



 আমার মূল বক্তব্য হলো, অন্যান্য
জটিল রোগের (
chronic disease) মতো ডায়াবেটিসেরও সবচেয়ে
ভালো এবং সেরা চিকিৎসা আছে একমাত্র হোমিওপ্যাথিতে (
Homeopathy)
। নতুন
আর পুরাতন দু
’ধরণের ডায়াবেটিসেরই
সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে আছে। ডায়াবেটিস হওয়ার মুল কারণ কি
? সাধারণ
মানুষের বুঝার মতো ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়
, আমাদের
শরীরের হজম শক্তি কমে যাওয়াই হলো ডায়াবেটিসের মুল কারণ। সাধারণ মানুষ যদিও মনে করে
আমাদের খাদ্য-দ্রব্য পাকস্থলী বা পেটে হজম হয় কিন্তু তা একেবারেই ভুল ধারণা।
পাকস্থলী এবং নাড়িভুড়িতে খাদ্য-দ্রব্য হজম হয় না বরং বলা উচিত শোষণ (
absorb)
হয়। সেখান থেকে শোষণ হয়ে রক্তের মাধ্যমে প্রতিটি কোষে কোষে পৌঁছে
যায়। আমাদের শরীরে যে কোটি কোটি কোষ আছে
, খাদ্য-দ্রব্য
হজমের কাজটি হয় সেই কোষগুলোতে। ডাক্তারী ভাষায় একে বলা হয় বিপাক ক্রিয়া (
metabolism)
। ইহার
পরিমাপকে বলা হয় বিপাক ক্রিয়ার হার (
BMR-basal metabolic rate)।



 



 কোষগুলোতে খাদ্য-দ্রব্য হজম
হয়ে শক্তি তৈরী হয় যা দিয়ে আমাদের শরীরের সমস্ত কাজ-কর্ম চলে। তাই ডায়াবেটিস
সমপুর্ণরূপে নির্মুল করতে চাইলে আমাদেরকে শরীরের হজম শক্তি বাড়াতে হবে অর্থাৎ
কোষের বিপাক ক্রিয়ার হার বাড়াতে হবে। আর সত্যি কথা হলো
, শরীরের বিপাক
ক্রিয়ার হার বাড়ানোর ক্ষমতা কেবল হোমিও ঔষধেরই আছে। আয়োডিয়াম (
Iodium), ক্যালকেরিয়া কার্বনিকাম (Calcarea carbonica), ফিউকাস ভেসিকোলোসিস (Fucus vesiculosis), ফাইটোল্যাক্কা
ডেকানড্রা (
Phytolacca decandra) ইত্যাদি হোমিও ঔষধগুলি
শরীরের বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষত আর্সেনিকাম ব্রোমেটাম (
Arsenicum
Bromatum), সিজিজিয়াম (Syzygium), এসিড
ফস (
acidum Phosphoricum), জিমনেমা সিলবাস্টা (Gymnema
sylvestra) ইত্যাদি হোমিও ঔষধগুলো যে-কোন ডায়াবেটিস রোগী খেয়ে
উপকার পাবেন
; সাধারণত এতে কোন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার
প্রয়োজন পড়বে না (নিম্নশক্তিতে ১০ ফোটা করে রোজ ৩ বার)। তবে ডায়াবেটিসের মূল
কারণসমূহ দূর করা এবং শরীরকে বিষমুক্ত করার কাজে হোমিও স্পেশালিষ্টের পরামর্শ
দরকার।



 



 যদিও
শারীরিক-মানসিক-পারিবারিক-জলবায়ুজনিত লক্ষণ সমষ্টির উপর ভিত্তি করে প্রদত্ত যে-কোন
হোমিও ঔষধেই ডায়াবেটিস সমপুর্ণ নির্মুল হয়ে যায়। তবে এই দুইটি ঔষধ হলো একেবারে
স্পেসিফিক। সত্যি বলতে কি ডায়াবেটিস আসলে একটি রোগ নয়
; বরং বলা
যায় এটি অনেকগুলি রোগের সমষ্টি (
group of diseases)
। অথবা বলা যায়
ডায়াবেটিসের পেছনে অনেকগুলো কারণ (
Link)  থাকে। ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য প্রথমে এই কারণগুলিকে একটি
একটি করে দূর করতে হয়। কিন্তু অন্যান্য বিভিন্ন পন্থী ডাক্তাররা এই কারণগুলো
সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং এই কারণগুলো দূর করার ক্ষমতাও তাদের ঔষধের নাই। তাদের
একমাত্র টার্গেট হলো রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে রাখা। ইদানীং আবার সে-সব
ডাক্তাররা পেটুক রোগীদের শরীরে অপারেশন করে পাকস্থলী কেটে ছোট করে দিচ্ছে যাতে
বেশী খেতে না পারে
, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ! এসব
কাণ্ডকারখানা চিকিৎসার নামে ববরর্তা ছাড়া কিছুই না। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে
,
খেজুর গাছের গোড়া না কেটে যতই অপারেশন-মলম-ট্যাবলেট-ইনজেকশান
প্রয়োগ করা হউক না কেন
, তাতে কিন্তু খেজুরের রসের উৎপাদন
বন্ধ করা যাবে না।



 



রক্তে সুগারের মাত্রা কেন বাড়ে
তা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নাই বরং সুগারের মাত্রা কিভাবে কমানো যায় তাই নিয়ে
ব্যস্ত। ফলে অস্বাভাবিক পথে শরীরের ওপর জবরদস্তি করে সুগারের মাত্রা কন্ট্রোল করার
জন্য তারা যে-সব ঔষধ/ ইনজেকশান রোগীদেরকে দেন
, সেগুলো দুয়েক বছর কাজ করলেও তারপর
আর কোন কাজ করে না। আমাদের শরীর এমনই অদ্ভূত ক্ষমতার অধিকারী যে
, বিষাক্ত ঔষধকেও এক সময় সে হার মানিয়ে দেয়। ফলে ডাক্তাররা ধীরে ধীরে
ঔষধ/ ইনজেকশানের মাত্রা বাড়িয়ে দেন কিন্তু তারপরও সুগারের মাত্রা আর কন্ট্রোলে আনা
যায় না। মাঝখানে এসব বিষাক্ত ঔষধের ধাক্কায় ধীরে ধীরে ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনী
নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। আর কিডনী যেহেতু নষ্ট হওয়ার কারণে ঠিকমতো রক্ত পরিষ্কার করতে
পারে না
, ফলে রক্ত বিষাক্ত হয়ে পড়ার কারণে রক্ত চলাচলের
সাথে বেশী সম্পর্ক আছে
, এমন অঙ্গগুলোও ধীরে ধীরে অকেজো
হয়ে পড়তে থাকে (যেমন- হৃদপিন্ড
, ব্রেন, স্নায়ু, চোখ ইত্যাদি)।



 



 ডায়াবেটিসের প্রচলিত চিকিৎসা
অনেকটা এরকমই। প্রথমে ডাক্তাররা কয়েক বছর ডায়েট কন্ট্রোল এবং হাঁটাহাঁটির মাধ্যমে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের চেষ্ঠা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন। তারপর কয়েক বছর
ট্যাবলেট-ক্যাপসুল দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষে ইনসুলিন (
insulin) ইনজেকশান
দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্ঠা করেন। প্রথমে কিছুদিন কাজ হলেও শেষে আর ইনসুলিন
ইনজেকশানেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না। ডায়াবেটিসের অশুভ গতি ফেরাতে না
পারার কারণে ধীরে ধীরে
কিডনী
, হৃদপিন্ড, ব্রেন, চক্ষু ইত্যাদিতে নানান জটিলতা দেখা
দিতে থাকে। ফলে এই সকল রোগের চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা বস্তা বস্তা ঔষধ খাওয়াতে
থাকেন। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই ডায়াবেটিসের উৎপাত এবং ভয়ঙ্কর বিষাক্ত ঔষধগুলির
বিষক্রিয়ায় কিডনী দুটি নষ্ট হয়ে ডায়াবেটিস রোগীরা কবরে চলে যান।



 



 এই প্রসংগে বলতে হয় যে, হাত-পায়ের
পচঁন বা গ্যাংগ্রিনেরও (
gangrene) সবচেয়ে উৎকৃষ্ট চিকিৎসা
আছে হোমিওপ্যাথিতে। অথচ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে ডাক্তাররা গ্যাংগ্রিন হলে ঔষধে
ভালো করতে না পেরে প্রথমে আঙুল কেটে ফেলে দেন
, তারপর
গ্যাংগ্রিন বাড়তে থাকলে সে-সব পন্থী ডাক্তাররা পায়ের গোড়ালি পযর্ন্ত কেটে ফেলে
দেন। তারপর গ্যাংগ্রিন আরো বাড়তে থাকলে হাঁটু পযর্ন্ত এবং শেষে কোমড় পযর্ন্ত পা
কেটে ফেলে দেন। এভাবে দেখা যায় যে
, দুই-তিনটি অপারেশনের
ধাক্কা সামলাতে না পেরে গ্যাংগ্রিনের রোগীরা দুয়েক বছরের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে
পড়েন। অথচ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কেবল মিষ্টি মিষ্টি ঔষধ মুখে খাওয়ার মাধ্যমেই
খুবই কম সময়ে এবং কম খরচের মাধ্যমে গ্যাংগ্রিন সারিয়ে দেওয়া যায়।



 



 রোগী অতীতে কি কি ঔষধ খেয়েছেন/
ভ্যাকসিন নিয়েছেন
,
কি কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেগুলো তার স্বাস্থ্যকে
কিভাবে-কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে
, ইত্যাদি নিয়ে সাধারণত
অন্যান্যপন্থী ডাক্তাররা মাথা ঘামান না। পক্ষান্তরে একজন হোমিও ডাক্তার রোগীর
মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পযর্ন্ত
, তার অতীত থেকে বর্তমান
পযর্ন্ত
, শরীরের বাহ্যিক রূপ থেকে মনের অন্দর মহল পযর্ন্ত
সকল বিষয় বিবেচনা-পযার্লোচনা করে হাজার হাজার হোমিও ঔষধ থেকে রোগীর জন্য সবচেয়ে
মানানসই ঔষধ খুঁজে বের করে প্রয়োগ করেন। আর এই কারণেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়
সবচেয়ে সহজে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল করা যায়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়
ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিমূর্ল করতে প্রথমে সেই ব্যক্তি জন্মগতভাবে (
Genetics)
যে-সব দোষত্রুটি নিয়ে জন্মেছেন, সেগুলোর
সংশোধন করতে হয়। তারপর বিষাক্ত এলোপ্যাথিক বা কবিরাজি ঔষধ খেয়ে শরীরের যে-সব ক্ষতি
করেছেন
, শরীর থেকে সে-সব বিষ দূর করতে হয়। তারপর টিকার (vaccine)
মাধ্যমে শরীরে যতটা প্রলয়কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তার ক্ষতিপূরণ করতে হয়। তারপর অপারেশন / একসিডেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে
শরীরের যতটা ক্ষতি হয়েছে
, সেগুলোর সংস্কার করতে হয়।
আপনজনের মৃত্যু
, প্রেমে ব্যথর্তা, বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা, চাকুরি / ব্যবসায়ের পতন
ইত্যাদি দুবির্পাকে সৃষ্ট মানসিক বেদনা থেকে শরীরের যেটুকু ক্ষতি হয়েছে
, তাহা মেরামত করতে হয়। মোটকথা, বিভিন্ন ভাবে
আমাদের দেহ-মনে যত বিষ ঢুকেছে
, আমাদের শরীরকে সে-সব বিষ
থেকে মুক্ত করতে হয়।



 



 আসলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা হলো
বিষমুক্তির (
detoxification)
চিকিৎসা। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের দেহ-মনকে বিষাক্ত (poisoning)
করে আর হোমিও চিকিৎসা আমাদের দেহ-মনকে বিষমুক্ত করে। হ্যাঁ,
বিষমুক্ত হওয়ার পরে আমাদের শরীর আবার তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে
শুরু করে। আমাদের দেহ-মনকে বিষমুক্ত করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক থেকে দুই বছরের মতো
লাগতে পারে। আবার অবিশ্বাস্য মনে হলেও একথা সত্য যে
, অনেক
সময় রোগীর শরীরের বিষের উৎপাত কম থাকলে এবং রোগীর একশভাগ লক্ষণ মিলিয়ে দিতে পারলে
মাত্র এক ফোটা হোমিও ঔষধেই ডায়াবেটিস নির্মূল হয়ে যায়। তবে হোমিওপ্যাথির ওপর যাদের
বিশ্বাস কম
, তারা ইচ্ছে করলে কিছুদিন হোমিও ঔষধের সাথে
অন্যান্য ঔষধও চালিয়ে যেতে পারেন। হোমিও ঔষধ সাধারণত অন্যান্য ঔষধের সাথে রিয়েকশান
করে না। পরিশেষে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞসহ সকল মেধাবী ডাক্তারদের নিকট আমাদের অনুরোধ
থাকবে
, ডায়াবেটিসের অভিশাপ থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করতে
তাঁরা যেন হোমিও ঔষধ প্রেসক্রাইব করেন।






কীভাবে রোগী দেখাবেন ?

অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট, হটসএপে রোগী দেখা, কুরিয়ারে ঔষধ

01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp