স্বপ্নদোষ কোন দোষ নয়। সপ্তাহে ২/৩ বার স্বপ্নদোষ কোন রোগ নয়। মূলতঃ শুক্রথলিতে সঞ্চিত শুক্রের চাপ এবং স্বপ্নের মাঝে একজন নারীর প্রতি দুর্বল হওয়ার ফলেই যৌন উত্তেজনায় বীর্যপাত হয়। অনেক সময় সারা রাতের প্রস্রাব থলিতে জমে চাপ সৃষ্টি করে, ফলে লিঙ্গ শক্ত হয়ে উত্তেজনা বেড়ে স্বপ্নদোষ হয়। তাই এটি কোন রোগ নয়।
কিন্তু, কারো যদি সপ্তাহে প্রতিদিন বা একদিনে কয়েকবার স্বপ্নদোষ হয়ে অভ্যাসে পরিণত হয় তখন অবশ্যই এটা রোগ এবং এর জন্য চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসাঃ
চিকিৎসা নেয়ার ধরন নির্ভর করে আর্থিক সামর্থ্য ও সন্তানের সাথে পরিবারের আচরণ ও লজ্জ্বার উপর। বেশীরভাগ ছেলেরাই অভিভাবককে লজ্বায় বলতে না পেরে নিজেই এর ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করে। আবার অনেকে অভিভাবককে জানিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করে। আমাদের দেশে যৌন সমস্যা ও এর কারণ ও সমাধান সম্পর্কে উপযুক্ত প্রচার ও শিক্ষা না থাকায় কিশোর কিশোরী তো বটেই, বয়স্ক মানুষেরাও ভুল জেনে থাকে।
আমাদের দেশের সাধারন মানুষের মধ্যে চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু কুসংস্কার কাজ করে, যেমন
১। আঁচিল হলে হমিওপ্যাথি ভালো
২। টিউমার হলে অপারেশন করতে হয়
৩। যৌন সমস্যা হলে কবিরাজি ভালো
ফলে, চিকিৎসার জন্য আমাদের কিশোর বয়সের অবুজ ছেলেরা অনেক সময় রাস্তার পাশে ক্যানভাসার দের থেকে ঔষধ কিনে খায়।
কেউ কেউ সাধনা ঔষধয়ালয়ে যায়।
কেউ কেউ হামদর্দ এর ঔষধ সেবন করে।
অনেকে আবার যৌন রোগের চিকিৎসক দেখিয়ে ঔষধ সেবন করেন।
কোথায় কি চিকিৎসা দেয়া হয় ?
১। ক্যানভাসার এর চিকিৎসা - ক্যানভাসার কখনই একজন চিকিৎসক নন।
২। আয়ুর্বেদ ও কবিরাজিতে নানারকমের হালুয়া আর সালসা নামক সিরাপ দেয়া হবে।
৩। এলোপ্যাথি যৌন চিকিৎসক আপনাকে ঘুমের ঔষধ, ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের ঔষধ দিবেন।
৪। খিচুড়ি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এর কাছে গেলে নানা রকম সিরাপ ও হোমিও ঔষধ দিবেন।
৫। বিশুদ্ধ হোমিও চিকিৎসক এর কাছে গেলে, হোমিও ঔষধ পাবেন।
কথা হল কোন ঔষধ কতটা কার্যকর ?
রিসার্চে দেখা যায়, আসলে কোনটি কার্যকর নয়। কারণ এটা কোন রোগ নয়। কবিরাজি ঔষধগুলো পরবর্তিতে কিডনি সমস্যা তৈরি করে থাকে। আর ঘুমের ঔষধ ছাড়া পরে সহজে ঘুম আসে না। আমার অসংখ্য রোগীতে আমি নিজেই প্রমাণ পেয়েছি যে শুধুমাত্র ঔষধ ছাড়া স্বপ্নদোষ নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন স্বপ্নদোষের ফলে যে ক্ষতিকর এফেক্ট দেখা দেয় সেটা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আরোগ্য হয়।
কিভাবে ?
তার আগে জানতে হবে বুঝতে হবে, আসলে স্বনদোষ কি ?
মূলত, ভালো উন্নত্মানের উত্তেজক খাবারের মাধ্যমে পুরুষের দেহে বেশী বেশী বীর্য তৈরী হয়, এবং বীর্যের শুক্রাণু উত্তেজিত হয়। ফলে প্রস্রাবের চাপে বা হরমোনের উত্তেজনায় বা যৌন উত্তেজনায় স্বপ্ন দোষ হয়ে থাকে।
সূতরাং এটা কে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
এর জন্য ঘরোয়া সমাধান
১। পর্ণগ্রাফী দেখা যাবে না।
২। রাত না জাগা। রাত ১০ টার মধ্যে ঘুমাতে হবে।
৩। সকাল বিকাল শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যয়াম করা।
৪। কোষ্ঠ কাঠিণ্য থাকলে তার সমাধান করা।
৫। সকালে খালিপেটে এবং রাতে ঘুমানোর সময় - ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ ইসবগুলের ভুষি ও ১ চামচ তোকমা মিশিয়ে খেয়ে নেয়া।
৬। সকাল থেকে বিকালের মধ্যে বেশী পানি পান করা, এরপর বিকাল থেকে পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া। রাতে বেশী পানি পান না করা।
৭। রাতের খাবার সন্ধ্যা ৬ টায় খেতে হবে এবং রাতের খাবারে মসলাযুক্ত বা উত্তেজক খাবার খাওয়া যাবে না। রাতের খাবার হবে, অত্যন্ত সাদাসিধে ভাবে ভাত এবং সবজি। ডিম মাছ মাংস কোনভাবেই নয়। রাত ৭ টার পর পিপাসা লাগলে অল্প পরিমাণ পানি ছাড়া কোনভাবেই পেট ভরে খাবার খাওয়া যাবে না।
শুধুমাত্র এই ১ টি মাত্র টিপস মেনেই ঔষধ ছাড়াই স্বপ্নদোষ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। অসংখ্য রোগীতে প্রমাণিত।
চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন ?
দীর্ঘদিন ধরে, স্বপ্নদোষ হতে থাকলে, রোগী দুর্বল হয়ে যায় এবং স্বপ্নদোষ অভ্যাসে পরিণত হয়। সেক্ষেত্রে, ঘরোয়া সমাধান মেনে চলার পাশাপাশি, একজন বিশুদ্ধ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এর কাছে যাবেন। হোমিওপ্যাথি ঔষধের মাধ্যমে, স্বপ্নদোষ এর অভ্যাস ও এর কুফল দূর করে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব।
অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এর কুফল
১) অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এর ফলে অতিরিক্ত বীর্য ক্ষয় হয়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
২) শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা তৈরী হয়।
৩) বুক ধড়ফড় করে, হাত পা কাঁপে।
৪) লেখাপড়া ও কাজ করার ইচ্ছাশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
৫) যৌন শক্তি নষ্ট হয়।
৬) যৌন দুর্বলতা দেখা দেয়।
৭) ঘনঘন প্রস্রাব হয়।
৮) লিংগ ছোট হতে থাকে।
৯) ধ্বজভংগ রোগ তৈরী হয়।
১০) স্বাস্থ্যহানি ঘটে, হীনমন্যতায় ভোগে।