শিগা, ফ্লেক্সনার ও সনি জীবাণু দ্বারা বেসিলারী ডিসেন্ট্রি বা রক্ত আমাশয় হয়ে থাকে। এরা সকলেই গ্রাম নেগেটিভ জীবাণু। স্যাঁত স্যাঁতে যায়গা বা অপরিষ্কার স্থানে যেখানে বহুলোক একত্রে বাস করে সেখানে এই রোগ বহুল পরিমাণে হয় এবং ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। পানি, খাদ্য এবং মাছির মাধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয়ে থাকে।
কোলন বা বৃহদন্তের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির ক্ষতযুক্ত প্রদাহকে রক্ত আমাশয় বলে। এতে অল্প জ্বর, সাদা আম বা আমযুক্ত রক্তভেদ, উদরে বেদনা, কুন্থন প্রভৃতি উপসর্গ থাকে। তীব্রতা অনুসারে প্রচুর আমরক্ত পায়খানা হতে পারে। পেট বেদনায় রোগী মূর্ছা যেতে পারে। প্রস্রাব কমে যেতে পারে বা একেবারে হয় না।
লক্ষণঃ
১। রক্ত আমাশয় রোগ হঠাৎ দেখা দেয়। রোগ জীবাণু দেহে প্রবেশ করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে দেখা দেয়।
২। জ্বর ১০২-১০৪ ডিগ্রী হয়ে পায়খানা আরম্ভ হতে পারে। জ্বর মধ্যম রকমেরও হতে পারে।
৩। মারাত্মক অবস্থায় রোগী তৃষ্ণার্ত হয়, জিহ্বা শুকনা হয়। মেনিজমের জন্য ব্যথা হয় এবং কতক সময় অগান বা খিচুনী হয়।
৪।বার বার মল ত্যাগ করে, তীব্র পেট ব্যথা ও পেট কামডানী থাকে।
৫। মলের পরিমাণ অল্প হয় তবে কয়েকবার মল ত্যাগের পর হতে রক্ত ও আম দেখা দেয়।
৬। পায়খানায় মলের মধ্যে মিউকাস ও রক্তই বেশী। ঘন্টায় ৭/৮ বার পায়খানা হয়। এবং রোগী দুর্বল হয়,
৭। মল পরীক্ষায় পাস সেল ও লোহিত রক্ত কণিকা (R.B.C) প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
৮। মল কালচার করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিগেলার জন্য পজিটিভ হয়।
৯। রোগের প্রচন্ডতা কয়েকদিন প্রবল থাকে। ঠিকমত চিকিৎসা না হলে রোগী ভাল হয় না। তবে রোগ একবারে ভাল না হয়ে ক্রণিক হতে পারে।