ছোট শিশু এবং অল্প বয়স্ক বালক-বালিকাদের মধ্যে কান পাকার প্রাদুর্ভাব বেশী। গলগহ্বরের সাথে মধ্য কানের যে নালী সংযোগ স্থাপন করেছে, তা অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র ঢোক গিলার সময় খোলা থাকে। কোন কারণে কোন জীবাণু এই নালীর মধ্যে দিয়ে এসে মধ্য কানে প্রদাহ সৃষ্টি করলে তাকে কান পাকা বা Otitis Media বলে।
সাধারনতঃ স্ট্রেপটোকক্কাস, নিউমোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস প্রভৃতি জীবাণু দ্বারা প্রদাহ হয়ে থাকে। মধ্য কানে প্রদাহের ফলে জলীয় ও মিউকাস দ্বারা কান ভরাট হয় এবং ঐ কানে অধিক চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে কানের দুর্বল অংশ দিয়ে টিমপেনিক মেমব্রেন ফেটে গিয়ে পুঁজ বের হয়ে কানের মধ্যে আসে। একে পারফোরেশন বলে। এই পুঁজকর্ণ পটহের উপর চাপ দেয় বলে খুব ব্যথা হতে থাকে। সময়মত চিকিৎসায় প্রদাহের উপশম না হলে কর্ণ পটহ ফেটে গিয়ে বহিকর্ণ থেকে পুঁজ গড়াতে থাকে। আবার কখনো কখনো কর্ণ ফেটে পুঁজ বের হয় না, কিন্তু কানের পিছনের যে সুক্ষ্ম জালির মত ম্যাসটয়েট অস্থি আছে, তার প্রদাহ ঘটায়।
গন্ডমালাগ্রস্থ শিশুদের এবং হাম, বসন্ত, আরক্ত জ্বর ও সর্দির পরে শিশু ও বালক-বালিকাদের কান পেকে থাকে। গন্ডমালাগ্রস্থ শিশুদের কানপাকা সহজে আরোগ্য হতে চায় না এবং এই রোগ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বধির হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোন তীব্র বাহ্যিক ঔষধ দিয়ে তাড়াতাড়ি পুঁজ বন্ধ করা অনেক সময় অনিষ্টের কারণ হয়।
কারণঃ
১। দীর্ঘদিন যাবত দর্দি কাশিতে ভুগলে এটা হয়ে থাকে।
২। কোনভাবে কানে পানি ঢুকলে প্রদাহ হতে পারে।
লক্ষণঃ
১। জ্বর হয়।
২। কান কামড়ায় এবং কানে অত্যাধিক ব্যথা হয়।
৩। কানের ভিতর পাকে এবং পুঁজ হয়।
৪। টিম্পেনিক মেমব্রেন বা কানের পর্দা ফেটে পুঁজ পড়ে এবং ব্যথা কমে যায়।
৫। কান হতে পুঁজ পড়ে, কান ভিজে থাকে, বিশ্রী দুর্গন্ধ হয়।
৬। মধ্যকানে জলীয় পদার্থ জমার ফলে মাথা ঘুরানি হতে পারে।
৭। মধ্যকানে প্রদাহের সাথে ম্যাসটয়েড সেলগুলির কিছুটা প্রদাহ হয়।
৮। শিশুদের ইউষ্টেসিয়ান টিউব ছোট বলে, যে সকল শিশু প্রায়ই সর্দি কাশিতে ভোগে তারা প্রায়ই কান পাকা রোগে ভোগে। শিশুরা কিছুই বলতে পারে না। তাই তাদের অবস্থা দেখে রোগ নির্ণয় করতে হবে। শিশু কান্নাকাটি করে, অত্যাধিক অস্থিরতা প্রকাশ করে, এবং বালিসে আম্থা ঘর্ষণ করে কিংবা হাত কানের কাছে নিয়ে যায়।