পেটের নাড়ীভুড়ির একটি অংশ পেরিটোনিয়াম সহ কুঁচকির ছিদ্র পথ দিয়ে বের হয়ে এসে চামড়ার নিচে অবস্থানের নাম হার্নিয়া। এক প্রকার হার্নিয়া অন্ডকোষের অন্ড পর্যন্ত প্রসারিত হয়। তা চলাফেরা করার সময় নেমে যায় এবং চিৎ হয়ে শুলে পেটের মধ্যে ঢুকে যায়। পেটের মধ্যে যেতে না পারলে হার্নিয়ার স্থানটি ফুলে উঠে।
জোরে টিপে ধরলে অন্ত্র উদরে প্রবেশ করে আবার পরে বের হয়ে আসে।
যে হার্নিয়া সহজে উদরে প্রবেশ করে তাকে সিম্পল হার্নিয়া বলে। যে হার্নিয়া সহজে উদরে প্রবেশ করে না, অর্থাৎ আটকে যায়, তাকে অবস্ট্রাকটেড হার্নিয়া বলে। এ হার্নিয়া অনেক কঠিন। এতে যখন স্থায়ীভাবে রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তখন হার্নিয়ার স্থানটি ফুলে উঠে, তীব্র ব্যথা হয়। এর নাম স্ট্রাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া। এর জন্য অপারেশন প্রয়োজন হয়।
সাধারণতঃ ১) ইংগুইন্যাল হার্নিয়া ২) আম্বাইলিক্যাম হার্নিয়ার রোগী বেশী দেখা যায়।
ক) ইংগুইন্যাল হার্নিয়াঃ
হার্নিয়া
রোগীর নাড়ী বা ইন্টেষ্টাইন ইংগুইন্যাল কোলনের ভিতর দিয়া এক্সটার্নাল রিং
অতিক্রম করে অন্ডকোষের মধ্যে প্রবেশ করলে তাকে কমপ্লিট ইংগুইন্যাল হার্নিয়া
বলে। এই হার্নিয়া ঠেলে বা টিপ দিয়ে তলপেটে ঢুকাইতে পারলে তাকে রিডিউসিবল
হার্নিয়া বলে। আর তা না ঢুকাইতে পারলে তাকে ইরিডিউসিবল হার্নিয়া বলে।
হার্নিয়া এই অবস্থায় থাকলে তা ফুলে রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত হলে তাকে
ষ্ট্যাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া বলে। এর ফলে তথায় গ্যাংগ্রীন হতে পারে বা হয়। মনে
রাখবেন, ইংগুইন্যাল হার্নিয়ায় ট্রাস বা বেল্ট ব্যবহার করলে তাতে উপকার
পাওয়া যায়। কিন্তু ষ্ট্যাঙ্গুলেটেড হার্নিয়াতে ট্রাস বা বেল্ট ব্যবহার
নিষিদ্ধ।
খ) আম্বাইলিক্যাল হার্নিয়াঃ
সাধারণতঃ
কলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেশী দেখা যায়। আম্বাইলিক্যাল নামক নাড়ী ভালভাবে
না শুকানোর কারণে ইন্টেষ্টাইন নাভীর ভিতর দিয়ে ঠেলে এসে নাভীকে ফুলিয়ে
রাখে। তাকে আম্বাইলিক্যাল হার্নিয়া বলে। এতে টিপ দিলে ভজ ভজ আওয়াজ হয়ে
ভিতরে চলে যায় এবং ছেড়ে দিলে আগের মত ফুলে উঠে।
কারণঃ
আঘাত লাগা, ভারী জিনিস উঠানো, জোরে হাঁচি, কাশি, জোরে চিৎকার করলে এই রোগ হতে পারে। আবার বেশী পরিশ্রম করলে বা মল মুত্রের সময় জোরে কোঁথ দিলেও এই রোগ হতে পারে।
লক্ষণঃ
১। হার্নিয়া আটকে গেলে আক্রান্ত স্থানটি ফুলে উঠে এবং অত্যন্ত ব্যথা হয়।
২। জ্বর, হেচকি, পেটফোলা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়।
৩। নাড়ির গতি দ্রুত হয়।
৪। বমি বমি ভাব হয় বা বমি হতে পারে।
চিকিৎসাঃ
সিম্পল হার্নিয়া হলে পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হয়। স্ট্রাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া হলে অভিজ্ঞ সার্জন দ্বারা অপারেশন প্রয়োজন হয়।
চিৎ করে শুয়ে দুই পা উঁচু করে ধরলে অন্ত্র আপনা-আপনি ভিতরে ঢুকে যায়। যদি না ঢুকে তবে ধারনা করতে হবে যে, এটা জটিল রোগ।
পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
১। ব্যথার স্থানে বরফ দিলে আরাম বোধ করে।
২। মাঝে মাঝে চিনি, মিছরি ইত্যাদির শরবত ভাল।