প্রস্রাবে এলবুমিন
এলবুমিন দেখতে কেমন ? ডিমের কুসুম বাদে বাকি অংশটুকু স্বচ্ছ, এলবুমিন ঠিক এই রকম একটি উপাদান। সমস্ত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে একেক রকম নামে অবস্থান করে। বিভিন্ন মেশিনে যান্ত্রিক ক্ষয় রোধ ও স্মুথ অপারেট এর জন্য মবিল গ্রীজ ব্যবহার করা হয়। ঠিক তেমনি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মবিল গ্রিজের মতই কাজ করে। হাড়ের জয়েন্টে থাকে আমাদের অঙ্গগুলো নড়া চড়া করার জন্য - সেখানে কমে গেলে বলা হয় ক্যালসিয়াম কমে গেছে। পাকস্থলীতে থাকে খাবারের স্মুথ গতি রক্ষার জন্য। যখন পাকস্থলী হতে পায়খানার সাথে থোকায় থোকায় বের হয় তখন বলে আমাশয় সমস্যা। রক্তে থাকে সমস্ত দেহের সকল কোষে পর্যাপ্ত এলবুমিন সরবরাহের জন্য এবং রক্তের গতিকে সচল রাখার জন্য।
কিডনী সার্বক্ষনিক রক্তকে ফিল্টার করে চলছে এর মধ্যকার দূষিত পদার্থ ইউরিয়াকে ( ইউরিয়া হল বিভিন্ন কোষ হতে উৎপাদিত বর্জ্য পদার্থ ) বের করে দেয়ার জন্য। এই ইউরিয়া ফোঁটায় ফোঁটায় জমা মূত্রথলীতে। একত্রে অনেক পরিমানে জমা হলে মূত্রথলী চাপ দেয়, তখন আমরা প্রস্রাবের চাপ অনূভব করি এবং তা প্রস্রাব নামে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।
কিডনীর ছাকন যন্ত্র খুবই সুক্ষ ইউরিয়া বের করে দেয়। এলবুমিন ইউরিয়া হতে ঘনত্ব বেশী বলে তা বের হয় না। এরপরেও সুক্ষ্মমাত্রায় সামান্য কিছু এলবুমিন বের হয় যা খুবই নগন্য। কিন্তু কোন কারণে কিডনীর ছাকন যন্ত্রে সমস্যা হলে এলবুমিন আটকাতে পারে না। বের হতে থাকে। তখন প্রস্রাবে এলবুমিন পাওয়া যায়। ছাকন যন্ত্রে যত বেশী ফাঁক তৈরী হবে তত বেশী এলবুমিন বের হবে।
স্বাভাবিক ভাবে প্রস্রাবে এলবুমিনের রেফারেন্স ভ্যালু হল <২০ , এর বেশী হলে তখন তা "প্রস্রাবে এলবুমিন" বা "এলবুমিনুরিয়া" সমস্যা নামে চিহ্নিত করা হয়।
গর্ভাবস্থায় এলবুমিনুরিয়া স্বাভাবিক, প্রসবের পর তা ঠিক হয়ে যায়। তবে অধিক হারে হলে চিকিৎসা দরকার।
এই এলবুমিন রোধের জন্য অর্থাৎ, কিডনীর ছাকন যন্ত্র রিপেয়ার করার জন্য এখন পর্যন্ত এলোপ্যাথিক কোন ঔষধ আবিষ্কার হয় নাই। হোমিওপ্যাথিতে এর লক্ষন ভিত্তিক ঔষধ আছে। আয়ুর্বেদিকেও এর ঔষধ আছে।