প্রতিটি মানুষের মনের মধ্যে নানা রকমের কল্পনা কাজ করে। এই কল্পনা যখন বাস্তবতারসাথে না মিলে তখন সে মানসিক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। আবার নানা শোক, নিপীড়ন ইত্যাদি থেকেও মনে আঘাত লাগে। এই আঘাত থেকে মনের স্বাভাবিক অবস্থা আহ্রিয়ে নানা রকম উপসর্গ দেখা দেয়। একেই বলে মানসিক সমস্যা। মানসিক সমস্যার শেষ নাই। ব্যাক্তি ভেদে, আঘাতের কারণ ও ধরনের উপর ভেদে নানা রকমের মানসিক সমস্যা হতে পারে। বুঝার সুবিধার্থে, এখানে মানসিক সমস্যার অল্প কিছু লক্ষন তুলে ধরা হল--
কারণঃ
মানসিক আঘাত, দাম্পত্য জীবনে পর্যাপ্ত যৌন মিলনের অভাব, মাথায় আঘাত, কোন রোগের কারণে ব্রেন ক্ষতিগ্রস্থ হলে, জন্মগত মানসিক ভারসাম্যহীন হলে।
লক্ষনঃ
মাথা তালু জ্বলা, উগ্র স্বভাব
মাথায় তীব্র যন্ত্রনা, রোগী নিজের মনে অনবরত কথা বলে
মাথা ভার ভার বোধ, মাথার যন্ত্রনা উপর হতে নিচের দিকে
ভয়ানক খিটখিটে ভাব, চীৎকার করা স্বভাব, অতীতের কথা গুলোই চিন্তা করে
ক্রুদ্ধ বা উত্তেজিত স্বভাব, বিষাদাচ্ছন্ন মন
উন্মাদ রোগ
ঘোর উন্মত্ততা
গোলমাল বা শব্দ অসহ্য
বাচাল বা বেশী কথা বলে
বিড় বিড় মিন মিন করে কথা বলে
জীবনে ঘৃনা
শিরঃপীড়া এর সাথে মাথা ঘুরায়
রোগী সামান্য কারণেই রেগে যায়। আর রেগে গেলে মাথার চারদিকে চিন চিন করে, ঘুরায়। বমি বমি ভাব লাগে।
রেগে গেলে বা টেনসন করলে মাথার তালু জ্বলে।
উত্তেজিত হলে বমি বমি ভাব।
প্রচুর গালি গালাজ করে।
মনের কষ্টে শরীর দুর্বল ও শ্বাস কষ্ট হয়।
রেগে গেলে শ্বাসকষ্ট সমস্যা হচ্ছে।
কাঁচ ভেঙ্গে ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে তাতে নাচে,
কাঁচের বোতল বা গ্লাস বা ব্লেড ছুরি দিয়ে হাতের মধ্যে কুচি কুচি করে দাগ কাটে।
মোমবাতিতে
আগুন ধরিয়ে তার থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় নিজের শরীরে ফেলে, এতে যে যন্ত্রণা হয়,
তাতে তার মনের কষ্ট কমে বলে মনে করে।
আগুনে নিজের শরীর বা শরীরের অংশবিশেষ পুড়িয়ে ফেলতে চায়।
দেয়ালে বা শক্ত কিছুতে আঘাত করে মাথা থেকে রক্ত ঝরাতে চায়।
রেগে গিয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গাড়ির নীচে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করতে চায়।
প্রায়ই বিষপান করে আত্মহত্যা করতে চায়।
রেগে গিয়ে ছুরি লাঠি ইত্যাদি দিয়ে আঘাত করতে চায়।
প্রায়ই কান্নাকাটি করে।
অস্বাভাবিক কোন আচরণ করে ইত্যাদি।
চিকিৎসা পরামর্শঃ
এলোপ্যাথিতে রোগীকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। ঘুমের ঔষধে রোগীর দেহ অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। আয়ুর্বেদিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এখনো দেখা যায় নাই। হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা হল রোগীর দেহ ও মনের লক্ষনে চিকিৎসা, তাই হোমিওপ্যাথিতে খুব দ্রুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগী আরোগ্য হয়। তবে অবশ্যই হোমিও মেডিসিনে দক্ষ চিকিৎসক দরকার।
যে সকল পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই ধরনের মানসিক সমস্যা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন দরকার এবং তাদের যৌন সমস্যা থাকলে, তার চিকিৎসা করে পর্যাপ্ত পরিমাণে সঠিক নিয়মে যৌন মিলন আবশ্যক। মানসিক সমস্যার প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক নিয়মে সুস্থ যৌন মিলনে সমস্যা দূর হয়ে যায় বলে, গবেষনা থেকে দাবী করা হচ্ছে।