[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 63 বার ]
Category : Diabetics
ডায়াবেটিস রোগীর টেস্ট প্রোফাইল :
CBC
HbA1c
HOMA-IR
C-Peptide
Fasting Insulin
Fasting blood Glucose
2hr Blood Glucose
U. RME
U. ACR
U. PCR
USG WA
=========
বিস্তারিত
=========
HbA1c :
HbA1c (গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন) রক্ত পরীক্ষাটি গত ২ থেকে ৩ মাসের আপনার গড় রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা পরিমাপ করে। এটি ডায়াবেটিস নির্ণয় এবং আপনার চিকিৎসা কতটা কার্যকর তা মূল্যায়নের জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
HbA1c কীভাবে কাজ করে?
রক্তে উপস্থিত গ্লুকোজ লোহিত রক্তকণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়। যেহেতু একটি লোহিত রক্তকণিকা প্রায় ৩ মাস বাঁচে, তাই এই পরীক্ষাটি দীর্ঘমেয়াদে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ বা নিয়ন্ত্রণের চিত্র তুলে ধরে।
ফলাফল এবং এর মাত্রা (রেঞ্জ):
নরমাল (Normal): ৫.৭% এর নিচে (No risk of diabetes)প্রি-ডায়াবেটিস (Prediabetes): ৫.৭% থেকে ৬.৪% (ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকি)ডায়াবেটিস (Diabetes): ৬.৫% বা তার বেশি
কেন এই পরীক্ষাটি করা হয়?ডায়াবেটিস এবং প্রি-ডায়াবেটিস নির্ণয় করার জন্য।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ গত কয়েক মাস কেমন ছিল তা পর্যবেক্ষণের জন্য।তাৎক্ষণিক রক্ত পরীক্ষার (যেমন ফাস্টিং বা র্যান্ডম ব্লাড সুগার) মতো এটি আগের রাতের খাবার বা সাময়িক মানসিক চাপের কারণে প্রভাবিত হয় না।
==========
HOMA-IR:
HOMA-IR (Homeostatic Model Assessment for Insulin Resistance) হলো এমন একটি রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance) বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কেমন তা পরিমাপ করা হয়.সহজ কথায়, আপনার অগ্ন্যাশয় (Pancreas) যে ইনসুলিন তৈরি করছে, শরীরের কোষগুলো তা কতটা কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে পারছে, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়. ডায়াবেটিস হওয়ার কয়েক বছর আগেই এই টেস্টের মাধ্যমে শরীরের মেটাবলিক সমস্যা বা ইনসুলিন হরমোনের নিষ্ক্রিয়তা আগেভাগেই ধরা সম্ভব।
পরীক্ষাটি কীভাবে করা হয়?এই পরীক্ষাটি করার জন্য রোগীকে কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা খালি পেটে (Fasting) থাকতে হয়। ল্যাবে রক্তের নমুনা থেকে দুটি বিষয় পরীক্ষা করা হয়:Fasting Glucose: খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা।Fasting Insulin: খালি পেটে রক্তে ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা।এরপর একটি বিশেষ মেডিকেল গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে HOMA-IR স্কোর হিসাব করা হয়:
HOMA-IR = ( fasting insulin x fasting sugar) / 405
ফলাফলের মাত্রা এবং ব্যাখ্যা (HOMA-IR Range):
ল্যাব ও শারীরিক গঠনভেদে মানের সামান্য তারতম্য হতে পারে, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত নিচের পরিমাপটি আদর্শ ধরা হয়:
১.০ বা তার কম (Optimal): চমৎকার। শরীর ইনসুলিনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিপাক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
১.০ থেকে ১.৯ (Normal): স্বাভাবিক মাত্রা। তবে এটি ১.৫ পার হলে সতর্ক হওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা ভালো।
২.০ থেকে ২.৯ (Early Insulin Resistance): মৃদু বা প্রাথমিক ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এর মানে হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে আপনার প্যানক্রিয়াসকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হচ্ছে।
৩.০ বা তার বেশি (Significant Insulin Resistance): মারাত্মক ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে।
কেন এই টেস্টটি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?ডায়াবেটিসের আগাম পূর্বাভাস: অনেক সময় HbA1c বা খালি পেটে সুগারের মাত্রা (Fasting Sugar) স্বাভাবিক দেখায়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে থাকে। HOMA-IR ডায়াবেটিস হওয়ার বছর খানেক আগেই সংকেত দিতে পারে।PCOS নির্ণয়: নারীদের বন্ধ্যাত্ব বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) এর অন্যতম মূল কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এটি শনাক্ত করতে ডাক্তাররা এই টেস্ট দেন।ওজন ও মেটাবলিক সিনড্রোম: অতিরিক্ত ওজন, ভুঁড়ি বা মেদ কমাতি কষ্ট হওয়া, অলসতা এবং ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার মূল কারণ জানতে এটি সাহায্য করে।
===========
C-Peptide :
C-Peptide (সি-পেপটাইড) হলো একটি রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে আপনার শরীর নিজে থেকে কতটা ইনসুলিন তৈরি করছে তা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা যায়.সহজ ভাষায়, অগ্ন্যাশয় (Pancreas) যখন ইনসুলিন হরমোন তৈরি করে, তখন একই সাথে সমপরিমাণে সি-পেপটাইড নামক একটি প্রোটিন উপজাত (Byproduct) হিসেবে রক্তে নিঃসৃত হয়. তাই রক্তে সি-পেপটাইডের মাত্রা দেখে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন আপনার ইনসুলিন তৈরির কারখানা (Beta Cells) কতটা সচল আছে।
কেন C-Peptide টেস্ট করা হয়?
ডায়াবেটিসের ধরন ও সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
টাইপ-১ বনাম টাইপ-২ ডায়াবেটিস নির্ণয়: টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, তাই সি-পেপটাইড খুব কম বা শূন্য থাকে. টাইপ-২ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন তৈরি করে কিন্তু তা কাজ করতে পারে না, তাই সি-পেপটাইড স্বাভাবিক বা উচ্চ থাকে।
ইনসুলিন থেরাপির সিদ্ধান্ত: কোনো টাইপ-২ রোগীর যদি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকার কারণে অগ্ন্যাশয় ক্লান্ত হয়ে ইনসুলিন তৈরি বন্ধ করে দেয় (Beta Cell Failure), তবে তাকে বাইরে থেকে ইনসুলিন দিতে হবে কিনা তা এই টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ খোঁজা: রক্তে সুগার হঠাৎ কমে যাওয়ার (Hypoglycemia) কারণ শরীর নিজে বেশি ইনসুলিন বানাচ্ছে (যেমন: অগ্ন্যাশয়ের টিউমার বা Insulinoma) নাকি বাইরে থেকে বেশি ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়ার কারণে হচ্ছে, তা এর মাধ্যমে আলাদা করা যায়।
ফলাফলের সাধারণ মাত্রা (Normal Range):
ল্যাবভেদে মানের কিছুটা তারতম্য হতে পারে, তবে খালি পেটে (Fasting) সাধারণ পরিমাপ হলো:স্বাভাবিক মাত্রা (Normal): ০.৮ থেকে ৩.৮৫ ng/mL (অথবা ০.২৬ থেকে ১.২৭ nmol/L).খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর (Stimulated/Postprandial) এই মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণত ৫ থেকে ১২ ng/mL পর্যন্ত হতে পারে।
ফলাফলের ব্যাখ্যা:
মাত্রা কম হলে (Low C-Peptide): এর অর্থ আপনার অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারছে না. এটি টাইপ-১ ডায়াবেটিস, লাডা (LADA - ১.৫ ডায়াবেটিস) অথবা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের শেষ পর্যায়ের লক্ষণ।
মাত্রা বেশি হলে (High C-Peptide): এর অর্থ আপনার শরীর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইনসুলিন তৈরি করছে. এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়, অতিরিক্ত ওজন (Obesity) বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) নির্দেশ করে।
এই পরীক্ষাটি সাধারণত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা খালি পেটে থাকা অবস্থায় রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে করতে হয়.
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp