[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 70 বার ]
Category : Alopathy, Treatment,
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স যা আমাদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি হুমকির কারন,যেখানে কোনও অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না, ফলে এমনকি সাধারণ সংক্রমণেও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে ..........
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স কি?
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যেখানে অণুজীব, প্রাথমিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব সহ্য করার ক্ষমতা বিকাশ করে।এটি ঘটে যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা অন্যান্য অণুজীবগুলি এমন প্রক্রিয়া তৈরি করে যা অ্যান্টিবায়োটিকগুলিকে কম কার্যকর করে বা সংক্রমণের চিকিৎসায় সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর করে তোলে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্সের কারন ?
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বা রেজিসটেন্স একটি ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য উদ্বেগ। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স এর মূল বিষয়গুলি নিম্নে বর্ণনা করা হল :
১. **অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অপব্যবহার**:
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের প্রাথমিক কারন হল অ্যান্টিবায়োটিকের অত্যধিক ব্যবহার এবং অনুপযুক্ত ব্যবহার। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্স সম্পূর্ণ না করা এবং কৃষি কাজে ও পশু পালনে অধিক পরিমানে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।
২. ** জেনেটিক মিউটেশন**:
ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হতে পারে এবং জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের সংস্পর্শে এলে, সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া মারা যায়, কিন্তু যে কোনো প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করে, এবং ব্যাকটেরিয়ার তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে যায়।
৩. **ক্রস-রেজিস্ট্যান্স**:
কিছু ব্যাকটেরিয়া একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, যা সংক্রমণের চিকিৎসা করা আরও কঠিন করে তোলে।
৪. **সুপারবাগ**:
প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, যাকে প্রায়ই "সুপারবাগ" বলা হয়, যেগুলো দ্বারা গুরুতর এবং কখনও কখনও চিকিৎসা অযোগ্য সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে MRSA (Methicillin-resistant Staphylococcus aureus) এবং CRE (Carbapenem-resistant Enterobacteriaceae)।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্সের ক্ষতিকর দিক গুলো কি কি?
১. **স্বাস্থ্য পরিচর্যার উপর প্রভাব**:
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ফলে হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ থাকার, স্বাস্থ্যসেবার খরচ বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের রোগীদের জন্য মৃত্যুর হার উচ্চ হতে পারে।এর অর্থ অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে সাধারন সংক্রমণ থেকে যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজ করবে না।
২. **অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকরীতা এবং অভাব **:
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে কম কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়, যা সম্ভাব্যভাবে "অ্যান্টিবায়োটিক-পরবর্তী যুগের" দিকে পরিচালিত করে যেখানে সাধারণ সংক্রমণ জীবন-হুমকি হতে পারে।
৩. **গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ**:
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা, এবং এর কোন সীমানা নেই। প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে, এটিকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত করে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধে করনীয়.........
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য লক্ষ্য। এর জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, রোগী, নীতিনির্ধারক এবং কৃষি ও প্রাণী সম্পদ খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধ করার জন্য কিছু মূল কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে যার মধ্যে রয়েছে ......
১ . **দায়িত্বের সাথে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার **:
- শুধুমাত্র একজন ডাক্তারের প্রেস্কিপশান অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করুন।
- নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স অনুসরণ করুন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্সটি সম্পূর্ণ করুন।আপনি যদি কোর্স শেষ করার আগে ভাল বোধ করেন তবুও অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করবেন না।
- কখনোই অন্যদের সাথে অ্যান্টিবায়োটিক শেয়ার করবেন না বা অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।
২ . ** ঘন ঘন হাত ধোয়া **:
- সাবান এবং পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া সংক্রমণের বিস্তার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩ . **টিকা দান**:
- ভ্যাকসিন নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে, যা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে।
৪ . **সংক্রমন প্রতিরোধ **:
- সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনুশীলন করুন যেমন নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করা, সংক্রামিত ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলা।
৫ . **অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রচার **:
-অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রোগ্রামগুলি বাস্তবায়ন করা উচিত।
৬. **কৃষি ও প্রানিসম্পদ খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা **:
- পশুসম্পদ বৃদ্ধির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সীমিত করুন এবং শুধুমাত্র পশুদের নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন।
৭ . **রোগ নির্ণয়ে দ্রুত ডায়াগনস্টিক টেস্ট তৈরি **:
- দ্রুত ডায়াগনস্টিক টেস্ট সংক্রমণের নির্দিষ্ট কারণ সনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে স্বল্প মাত্রার নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যায়।
৮ . ** অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স গবেষণা ও উন্নয়ন**:
- সংক্রমণের জন্য নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি এবং বিকল্প চিকিৎসা আবিষ্কার করতে গবেষণায় বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরী।
৯ . **শিক্ষা এবং সচেতনতা**:
- স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ডাক্তার ,রোগী এবং জনসাধারণের মধ্যে দায়িত্বশীল ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের গুরুত্ব এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্সের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
১০ . **আন্তর্জাতিক সহযোগিতা**:
- অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধের জন্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য কারণ এঅ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স এর কোন সীমানা নাই। রেজিসটেন্স ব্যাকটেরিয়ার বিশ্বব্যাপী বিস্তার পর্যবেক্ষণ ও মোকাবেলায় দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, বিশেষ করে যখন প্রয়োজন নয় বা ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।অ্যান্টিবায়োটিকের সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো এখানে তুলে ধরা হল ...............
১ . **পেট ও হজম জনিত সমস্যা**:
বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং পেটে ব্যথা অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
২ . **অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া**:
কিছু ব্যক্তির কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি অ্যালার্জি হতে পারে, যার ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ফোলাভাব বা, গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যানাফিল্যাক্সিস হতে পারে।
৩ . **ইস্টের সংক্রমণ**:
অ্যান্টিবায়োটিকগুলি শরীরের উপকারী ভালো এবং ক্ষতিকারক অণুজীবের ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে শরীর এ ফাঙ্গাস/ইস্ট এর সংক্রমণের হতে পারে, বিশেষ করে মুখে এবং যৌনাঙ্গে।
৪ . **ফটোসেনসিটিভিটি**:
কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের ত্বককে সূর্যালোকের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
৫ . **পরিপাক সমস্যা**:
অ্যান্টিবায়োটিকগুলি অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে ক্লোস্ট্রিডিয়াম ডিফিসিল (সি. ডিফ) সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে ।
৬ . **সেকেন্ডারি ইনফেকশন**:
ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক কখনও কখনও উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে পারে, যা অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
৭ . **কিডনি বা লিভারের সমস্যা**:
কিছু কিছু ক্ষেত্রে, অ্যান্টিবায়োটিক কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে করে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ডাক্তার , গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং জনসাধারণের কাছ থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করি।
এই পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সাবাইকে জানার সুযোগ দিন এবং পেইজ টি ফলো করে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
এই পেইজ এর পূর্বের পোস্ট গুলো পড়ার জন্য আমন্ত্রণ রইল।
সবাই সুস্থ থাকবেন।
ধন্যবাদ।
ডাঃ সৈয়দ হোসাইন আল ফারুকী
এম.বি.বি.এস, এম.আর.সি.পি. (ইউ.কে), এম.আর.সি.পি. (লন্ডন)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, এন.এইচ.এস (ইংল্যান্ড)
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp