হৃদপিন্ডের ধমনীর রক্ত জমাট হওয়া হল - করোনারী থ্রোম্বোসিস। করোনারী আর্টারী হার্ট এর উভয় পাশে রক্ত সরবরাহ করে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে করোনারী আর্টারীর মধ্যে কোলেস্টরল ও চর্বি জমে ধমনীর ভিতরের অংশ সরু হয়ে যায়। তখন হার্টে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। আবার দীর্ঘদিন যাবত এঞ্জাইনা পেক্টরিজ ও সিফিলিস রোগে ভুগলে করোনারী আর্টারী সরু হয়ে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এমনিভাবে ধীরে ধীরে হঠাৎ যখন করোনারী আর্টারীর পথ আরো সরু হয়ে রক্ত চলাচল করতে না পেরে রক্ত জমাট হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়, তখন একেই করোনারী থ্রোম্বোসিস বলে। এতে রোগীর হঠাৎ মৃত্যু হয়ে থাকে।
এই থ্রোম্বোসিস শরীরের যে কোন স্থানে হতে পারে। তবে সচরাচর হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কে থ্রোম্বোসিস হয়ে থাকে।
কাদের হয়ঃ
১। সাধারণত বয়স ৪০ এর বেশী হলে সম্ভাবনা থাকে।
২। আক্রান্ত ব্যক্তি এঞ্জাইনা পেক্টরিজে ভুগতে পারে বা ভোগার ইতিহাস পাওয়া যায়।
কেন হয় ?
১। নিয়মিত শরীর চর্চা না করলে।
২। চর্বিযুক্ত খাবার বেশী খেলে।
৩। রক্তের চর্বি ও কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রিত না থাকলে।
৪। অধিক পরিমাণে মাংস খাবার অভ্যাস থাকলে, বা অন্য কোন কারণে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে হতে পারে।
লক্ষণঃ
১। হঠাৎ বিশ্রামের সময় ব্যথা হয়।
২। হার্টে ব্যথা হয়। ব্যথা উভয় হাতের দিকে, গলা, পেটের দিকে ছড়িয়ে যায়।
৩। রোগী ব্যথায় অস্থির হয়, চেহারা ফ্যাকাশে দেখায় এবং অধিক ঘাম হতে পারে।
৪। ব্লাড প্রেসার কমে যায়। হাতের নাড়ীর স্পন্দন ক্ষীণ হয়।
৫। রক্ত পরীক্ষায় শ্বেত রক্ত কণিকা বৃদ্ধি দেখা যায়। তা ২৫,০০০ এর বেশী হতে পারে।
৬। রক্ত পরীক্ষায় ERS বৃদ্ধি পাওয়া যায়।
এঞ্জাইনা পেক্টরিজ ও করোনারী থ্রোম্বোসিস এর পার্থক্যঃ
এঞ্জাইনা পেক্টরিজ
|
করোনারী থ্রোম্বোসিস
|
১।
পরিশ্রমের সময় হয়।
২।
শ্বাসকষ্ট থাকে না, থাকলেও কম হয়।
৩। ঘামে না।
৪।
নাড়ীর স্পন্দন ক্ষীণ হয় না।
৫।
রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
৬।
শ্বেত রক্ত কণিকা বৃদ্ধি পায় না।
|
১।
বিশ্রামের সময় হয়।
২।
শ্বাসকষ্ট থাকে।
৩। ঘামে।
৪।
নাড়ীর স্পন্দন ক্ষীন হয়।
৫।
রক্তচাপ কমে যায়।
৬।
শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
|
চিকিৎসা পরামর্শঃ
সমস্যা দেখা দেয়া মাত্রই দেরী না করে। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। শ্বাসকষ্ট থাকলে অক্সিজেন দিতে হবে।
রোগী খারাপ অবস্থা হবার আগেই বা সুস্থ হয়ে বাসায় আসার পর, রোগীর খাবার এর বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। রক্তের কোলেস্টরল ও চর্বি কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘরোয়া হোম রেমিডি খেয়ে এই রোগের আধিক্য কমানো সম্ভব। এর জন্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ বা ডায়েট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার।
allmedicin.com এ রক্তের কোলেস্টরল ও চর্বি কমানোর নির্ভরযোগ্য ঔষধ আছে। আমাদের ই-ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে সেবন করতে পারেন।