পিত্ত ( গল ব্লাডার / Gall Bladder ) থেকে জমানো পিত্তরস, পিত্তবাহীনালী ( Bile Duct ) দিয়ে ধীরে ধীরে ডিওডেনাম এর মধ্যে পতিত হয়। আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য হজমের জন্য। অনিয়মিত খাদ্যাভাসের জন্য অনেক সময় এই পিত্ত জমাট বেঁধে যায় ও ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। এই পিত্তকণা সবুজ, কালো বিভিন্ন রঙের হয়। এক বা একাধিক পাথর কণা হতে পারে। সুক্ষ্ম পাথর কণা হলে নিজে থেকে বের হয়ে যেতে পারে।
রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্যঃ
আমাদের পাকস্থলিতে খাবার কিছুটা হজমের পর তা ডিওডেনামে প্রবেশ করে সেখানে আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাবার হজমের জন্য পিত্তরস আসে পিত্তথলী থেকে। এই পিত্তরস লিভারে উৎপন্ন হয়ে পিত্তথলীতে জমা থাকে। পাকস্থলিতে খাবার প্রবেশের পর শরীরের অটোমেটিক প্রক্রিয়ায় একের পর এক হজমের ধাপ সম্পন্ন হয়। পাকস্থলিতে থেকে কিছু এনজাইম ও হাইড্রোক্লরিক এসিড নির্গত হয়, খাবার এর প্রাথমিক হজমের জন্য। ডিওডেনামে আমিষ হজমের জন্য পিত্তরস নির্গত হয়। এই সব কিছুই ব্রেইন থেকে কমান্ডে একের পর এক চলতে থাকে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে, শরীরের এই নিয়মেরও অভ্যাস গড়ে উঠে। এখন কেউ যদি একেক দিন একেক সময় খাবার খায়, এবং কখনো খায় না, এইভাবে অনিয়ম করে তখন শরীরের এই নিয়মে জটিলতা তৈরী হয়, কখনো দেখা যায়, খাবারের সময় খাবার খাওয়া হয়নি, কিন্তু পিত্তরস ঠিকই নির্গত হচ্ছে, তখন পিত্ত বমি হতে পারে। আবার দেখা গেল, খাবার না খাওয়ায় ব্রেইন এর কমান্ড সিগন্যাল না পাওয়ায় হজমের জন্য পিত্তরস নির্গত হতে না পেরে তা জমাট বাধতে থাকল। এই জমাট জমতে জমতে এক সময় পিত্ত পাথর হিসেবে পরিণত হয়।
সাধারণত যারা সকালে খাবার খায় না, বা দিনভর উপোস থাকে, অনিয়মিত জীবনযাপন করে, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রবণতা বেশী। তাদের লিভার সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও বেশী হয়ে থাকে। মোট কথা লিভার, পিত্ত, পাকস্থলী ও এপেনডিক্স এর সমস্যার মুল কারণ হল অনিয়মিত আহার ও বিশৃঙ্খল জীবন যাপন।
লক্ষণঃ
এই রোগের প্রধান লক্ষণ হল, পিত্তকোষের স্থানে অল্প অল্প ব্যথা। আবার অনেক সময় পিত্তের মধ্যে পাথর থাকা সত্ত্বেও কোন বেদনা হয় না। পাথরটি যখন পিত্ত থেকে পিত্তনালীতে আসে তখন হঠাৎ করে দুঃসহ বেদনা হয় এবং রোগী অস্থির হয়ে পড়ে। এর নাম পিত্তশূল ( Biliary Colic )। খুব ছোট পাথর হলে পিত্ত নালী দিয়ে অন্ত্রে চলে আসে। বড় আকারের পাথর হলে তা পিত্তনালীতে ঢুকতে পারে না। কিন্তু মাঝারী আকারের পাথর পিত্তনালীতে আটকে গিয়ে পিত্তনালী বন্ধ করার উপক্রম হলে বা হঠাৎ বন্ধ হলে যে কলিক ব্যথা উঠে তার কষ্ট খুব ভয়ানক। এই সময় রোগীর বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
১। দক্ষিণ ( ডান ) কাঁধ থেকে প্রচন্ড ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ব্যথায় অস্থির ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
২। বেদনার সময় নাড়ী দুর্বল হয়। রোগী ছটফট করে, শরীরে ঠান্ডা ঘাম হয়।
৩। অনেক সময় জন্ডিস হয় ও শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
৪। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
৫। অনেক সময় বমি বা পিত্তবমি হয় বা হতে পারে।
৬। প্রচন্ড ব্যথার পর অনেক সময় ২/১ দিন পরে ব্যথা আপনা আপনি ভাল হয়ে যায়। তখন বুঝতে হবে, পাথরটি ছোট থাকায় নিজে থেকি বের হয়ে গেছে। বের না হলে অপারেশনের দরকার হয়। পাথরী পিত্তকোষ থেকে বের হয়ে গেলে তা মলের সাথে বেরিয়ে যায়। তখন আর কোন প্রকার যন্ত্রণা হয় না।
রোগ নির্ণয়ঃ
X-ray বা Ultrasonogram করলে পাথরের অবস্থান নির্নয় করা যায়।
পথ্য ও আনুষঙ্গিকঃ
১। হালকা পুষ্টিকর সরল খাদ্য দিতে হবে।
২। ডাবের পানি, ঘোল, ছানার পানি, ফলের রস খুবই উপকারি।
৩। চর্বিযুক্ত খাবার, ঘি, মাখন, মাংস ইত্যাদি না খাওয়াই উত্তম।