ব্রঙ্কিয়াল এজমা বা হাঁপানী সকল বয়সের লোকের হতে পারে, তবে শিশু ও বৃদ্ধদের বেশী হয়ে থাকে। এটি শ্বাসকষ্ট জনিত একটি ব্যাধি। এজমা নানা কারণে হতে পারে।
কারণঃ
১। ঠান্ডা পরিবেশ বা শীতকালে বেশী দেখা দেয়। ঠান্ডা থেকে হতে পারে।
২। মানসিক দুশ্চিন্তা, ফুসফুসের ইনফেকশন, বা এলার্জি কারনে হতে পারে।
৩। কোন কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের নলগুলি সংকীর্ণ হলে বা কফ জমে বাতাস চলাচল করতে না পারলে।
৪। কখনো রক্তে Eosinophil বৃদ্ধি পেয়ে।
৫। অনেক সময় বংশগত কারণে এলার্জি হয় বলে দেখা গেছে।
৬। কিছু খাবার যেমন - গরু, হাঁসের মাংস, হাঁসের ডিম, চিংড়ী মাছ, কাকড়া, বোয়াল মাছ, বেগুন ইত্যাদি খেলে শ্বাসনালীর মাংসপেশীতে খিচুনি হয়ে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে অনেকের এজমা দেখা যায়। খাবারের ক্রিয়া দূর হলে আবার ভাল হয়ে যায়।
৭। অতি দুর্বলতা ও নিশ্বাসের বায়ুতে অক্সিজেনের স্বল্পতা থেকেও হতে পারে।
৮। অনেক সময় ধূলাবালি বা গৃহপালিত পশু-পাখির লোম নিঃশ্বাসের সাথে নাকে প্রবেশ করলে প্রদাহ হয়ে শ্বাসনালী সরু হয়ে এজমা হয়।
প্রকারভেদঃ
কয়েক প্রকারের এজমা রয়েছে--
১। ইডিওপ্যাথিক এজমা
২। সেকেন্ডারি এজমা
৩। কার্ডিয়াক এজমা
৪। রেনাল এজমা
১। ইডিওপ্যাথিক এজমা - এর কোন সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। কোন কোন ক্ষেত্রে বংশগত এজমা ইতিহাস থাকে।
২। সেকেন্ডারী এজমা - রক্তে ইসনোফিল বৃদ্ধি পেলে বা পুরাতন টি.বি রোগী বা পুরাতন ব্রঙ্কাইটিসের রোগী বা ফুসফুসের ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর এজমা হলে তাকে সেকেন্ডারী এজমা বলে।
৩। কার্ডিয়াক এজমা - উচ্চ রক্তচাপের রোগী বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এজমায় আক্রান্ত হতে পারে, একে কার্ডিয়াক এজমা বলে।
৪। রেনাল এজমা - কিডনীর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বহুদিন ভোগার পর শেষ অবস্থায় হাঁপানীর মত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়াও ডিপথেরিয়া, শ্বাসনালীতে কিছু ঢুকা, এলার্জি ইত্যাদি কারণেও এজমা বা হাঁপানী হয়ে থাকে।
লক্ষণঃ
১। হঠাৎ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়।
২। ঘুমের ঘোরে এই রোগ শুরু হলে রোগী হঠাৎ উঠে বসে এবং অত্যন্ত শ্বাসকষ্ট অনুভব করে।
৩। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। পুরাতন রোগী এই অবস্থা এড়ানোর জন্য ঘর হতে বাহিরে মুক্ত স্থানে আসে।
৪। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহন ও নির্গমন দূর হতেই বুঝা যায়।
৫। মাঝে মাঝে জ্বর হয়। জ্বর হলে শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পায়।
৬। রোগীর কাশি থাকে, তবে সহজে কফ বের করতে পারে না।
৭। ২/৩ ঘন্টা কষ্ট অনুভবের পর রোগী হঠাৎ ভাল হয়ে যায়।
৮। অনেক ক্ষেত্রে বিরামহীন ভাবে চলে, তখন একে স্টেটাস এজমাটিকাস বলে।
৯। অনেক ক্ষেত্রে মৃদু হাঁপানী চলতে থাকে। এ অবস্থায় রোগী চলাফেরা করে, তবে বেশী পরিশ্রম করলে হাঁপিয়ে পড়ে। এটিই হল ক্রোণিক এজমা।
১০। শ্বাস টানতে বললে পাঁজরের মাংসপেশী ভিতরের দিকে যায় এবং নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় আবার উঁচু হয়ে উঠে।
১১। বুকে কান পাতলে গলায় ও বুকে শাঁই শাঁই শব্দ শোনা যায়।
লক্ষণীয়ঃ অনেক সময় ছোট ছেলেমেয়েদের ব্রঙ্কাইটিস বা ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া হলে কাশির সঙ্গে হাঁপানী দেখা যায়। মূলতঃ তা হাঁপানী নয়। রোগ আরোগ্যের সঙ্গে সঙ্গে ঐ টান থাকে না।
চিকিৎসা পরামর্শঃ
দীর্ঘস্থায়ী পুরাতন হাঁপানী রোগীদের নিরাশ হওয়া উচিত নয়। এলোপ্যাথি চিকিৎসায় যদিও সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করার ক্ষমতা নাই। তবুও কেউ কেউ নাটকীয় ভাবে রোগ মুক্তি লাভ করে। তবে আশার কথা হচ্ছে এই যে, যে সকল কারণে হাঁপানী হয় তা এড়িয়ে চললে এবং ধৈর্য্য ধরে বেশ কিছু দিন হোমিও চিকিৎসা নিলে প্রায় ৯০ % রোগী আরোগ্য লাভ করে থাকে। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, রোগিরা বছরের পর বছর জীবনভর এলোপ্যাথি চিকিৎসা করলেও ধৈর্য্য নিয়ে হোমিও চিকিৎসা নেয় না। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করে অনেকে সাময়িক বা বেশ কয়েক বছরের জন্য আরোগ্য লাভ করে বলে জানা যায়। কেউ কেউ সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে থাকে।
জরূরী ক্ষেত্রে এলোপ্যাথি চিকিৎসার বিকল্প নেই, যেখানে রোগীর প্রান সংশয় সম্ভাবনা থাকে।
রোগির শ্বাসকষ্ট হওয়া মাত্রই দরকার মত অক্সিজেন বা নেবুলাইজার দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বর্তমানে অনেক এলোপ্যাথি হোমিওপ্যাথি ঔষধ আছে জরুরি মুহুর্তে ও এর পরবর্তী সময়ে সেবনে আরোগ্য লাভ করা যায়। এর জন্য ভাল মেডিসিন চিকিৎসক দরকার।