লিভারের সিরোসিস একটি কঠিন ব্যাধি। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্রম অগ্রসরমান রোগ। এই রোগকে আমরা যকৃত কোষের অধোগমনজনিত কোষ বিনষ্ট, কোষ পুনঃনির্মাণ এবং কোষ প্রতিস্থাপনের ফলশ্রুতি বলতে পারি। অতিরিক্ত মদ্যপানকে এই রোগের একটা কারণ বলে উল্লেখ করা হলেও খাদ্যে প্রোটিনের অপর্যাপ্ততা এবং বি-ভিটামিনের অভাবে আমাদের দেশে লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ। কোলন, মেথিওনিন প্রভৃতি লাইপোট্রপিক উপাদান যকৃতে চর্বির অনুপ্রবেশ রোধ করে। তাই এইগুলির অভাব যকৃতকোষে চর্বি জমা করে সিরোসিস জনিত পরিবর্তনের অতি প্রাথমিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। সিরোসিস রোগীর শতকরা প্রায় দশজনের পিত্তনালীতে বা যকৃতের জীবাণুঘটিত প্রদাহের পূর্ব ইতিহাস পাওয়া যায়।
১। পোর্টাল সিরোসিস
দীর্ঘদিন যাবত অখাদ্য কিংবা অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন করলে ধীরে ধীরে এই রোগে আক্রান্ত হয়। ক্রমাগত রাত্রি জাগরণ, মদ্যপান ও ধুমপান করলেও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। হেপাটাইটিজ রোগ হতেও এই রোগের বিকাশ ঘটে থাকে।
কারণঃ
১। দীর্ঘদিন যাবত হেপাটাইটিজ রোগে ভুগলে সিরোসিস হয়।
২। অনেক সময় কোলসিসটাইসিস থেকেও সিরোসিস হয়।
৩। ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর প্রভৃতি রোগ থেকে হেপাটাইটিজ রোগ এবং পরে তা থেকে সিরোসিস রোগ হতে পারে।
৪। Viral হেপাটাইটিজ থেকেও লিভারের সিরোসিস রোগ হতে পারে।
৫। Infection ( জীবাণু দূষণ ) থেকে পোর্টাল বিলিয়ারী সিরোসিস হতে পারে।
লক্ষণঃ
১। পোর্টাল রক্ত সঞ্চালনে বাধার সৃষ্টি হয়ে যকৃতের আকার বদলে যায়। প্রথমে বড় ও পরে ছোট হয়। এর ফলে যকৃত ও পাকস্থলী হতে রক্তক্ষরণ এবং পেটে পানি জমে উদরী রোগের সৃষ্টি হয়।
২। লিভারে ব্যথা, ডান দিকে ব্যথা, ডান কাধে ব্যথা, ডান বুকে, ডান পেটে ব্যথা থাকে।
৩। মুখের স্বাদ তিতা হয়। অজীর্ণ, অক্ষুধা দেখা দেয়।
৪। দীর্ঘদিন যাবত এই রোগ সুপ্ত অবস্থায় থাকে। অনেক সময় কয়েক বছর পর্যন্ত রোগের কোন লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে।
৫। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ প্রকাশ না পাইলেও রোগীর পুরাতন বদহজম, পেট ফাঁপা, ঢেকুর কিংবা কোষ্ঠ-কাঠিন্য থাকে।
৬। দেহের রং মেটে এবং হালকা হলুদ বর্ণ হয়।
৭। এমনিভাবে সুদীর্ঘকাল রোগে ভোগার ফলে রোগীর যকৃত অকেজো হয়ে পড়ে এবং হঠাৎ রোগীর মৃত্যু হয়।
২। হাইপারট্রোফিক বিলিয়ারী সিরোসিস
সাধারণতঃ মধ্যম বয়সের লোকেরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বা হয়ে থাকে। এই রোগ হঠাৎ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। পিত্তনালীর পথে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার বাড়ে এবং নরম হয়। নরম সেলগুলি ফাইবারে পরিণত হয় এবং লিভার শক্ত হয়।
লক্ষণঃ
১। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর জ্বর হয়।
২। যকৃত ও প্লীহা বৃদ্ধি পায়।
৩। দেহের রং হলুদ বর্ণ হয়, ধীরে ধীরে জন্ডিসে আক্রান্ত হতে পারে।
৪। মাঝে মাঝে পিত্ত বমি হয়।
৫। শীর্ণতা, দুর্বলতা ও মারাত্মক রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।
৬। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত জল উদরী রোগেও আক্রান্ত হতে পারে।
পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
১। প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যুক্ত খাবার দিতে হবে।
২। পরিশ্রম কমিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে।
৩। পায়খানা পরিষ্কার রাখতে হবে।
৪। বমি থাকলে বমি বন্ধের ঔষধ দিতে হবে।
৫। ভিটামিন যুক্ত ঔষধ খেতে হবে।
৬। রোগ জটিল হলে অভিজ্ঞ ডাক্তার এর স্মরণাপন্ন হতে হবে।