বিভিন্ন কারণে শরীরে পানি জমে ফোলা বা শোথ রোগ হতে পারে। ভিটামিনের অভাবে যে শোথ বা ফোলা হয়, তার নাম বেরিবেরি। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এর অভাবে এই রোগ হতে পারে। অনেক সময় অন্যান্য ভিটামিনের অভাবেও হতে পারে। সকল বয়সের লোক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণতঃ খাদ্যের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।
লক্ষণঃ
১। শরীর দুর্বল হয়।
২। হাত, পা ও মুখে শোথ দেখা দিতে পারে আবার নাও পারে। অর্থাৎ, কারো কারো শোথ দেখা যায়, কারো কারো শোথ দেখা যায় না।
৩। অল্প পরিস্রমে রোগাই হাপিয়ে পড়ে। এবং কোন কাজ করতে গেলে বুক ধড়ফড় করে।
৪। পায়ের মাংসপেশী এবং চামড়া শুকিয়ে যেতে পারে।
৫। হাঁটুর নিচের টেনডনে হাতুড়ি দ্বারা আঘাত করলে পা জোরে ঝাকুনি দিয়ে উঠে।
৬। লিভার বৃদ্ধি পেতে পারে।
৭। পেট, প্লুরা প্রভৃতি স্থানে পানি জমতে পারে।
বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ অনুযায়ী এই রোগের প্রকারভেদ করা হয়েছে।
১। Larval / Ambulatory Beriberi
২। Acute Beriberi
৩। Sub-Acute Beriberi
৪। Chronic Beriberi
১। Larval / Ambulatory Beriberi
এই অবস্থায় রোগী চলাফেরা করতে পারে।
২। Acute Beriberi
এটা হঠাৎ আক্রমণ করে। রোগীর ক্ষুধা কমে যায়। পেটে অস্বস্তি বোধ করে। বমি, হাত-পায়ের অসাড়তা, স্বরলুপ্তি, হার্ট দুর্বল ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা না করালে রোগীর প্রাণাশঙ্কা দেখা যায়। এই অবস্থায় দ্রুত রোগীর হাত-পা ফুলে উঠে।
৩। Sub-Acute Beriberi
এই অবস্থায় রোগীর পায়ের ডিমে ( Calf Muscle ) অসাড়তা, কোমরে বা নার্ভে ব্যথা, হাত-পা ভারবোধ হয়। ধীরে ধীরে হাত-পা ফুলে উঠে। কর্মক্ষমতা থাকে না। চলাফেরায় কষ্ট হয়, শ্বাস-কষ্ট দেখা দেয়, হার্ট দুর্বল হয়।
৪। Chronic Beriberiবার বার বেরিবেরি রোগ হওয়ায় তা পুরাতন বেরিবেরি-তে পরিণত হয়। এ অবস্থায় কিংবা ভিটামিনের অভাবে শোথ হয় না। তবে কোমরে ব্যথা, দুর্বলতা, শ্বাস-কষ্ট, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি থাকে।
এছাড়া বেরিবেরি - কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১। শুষ্ক বেরিবেরি
২। ফোলা বেরিবেরি
১। শুষ্ক বেরিবেরিঃ
এতে সমস্ত অঙ্গ অসাড় হয়ে পড়ে এবং মাংসপেশী শুকিয়ে যায়। মাংসপেশী বিশেষ করে পায়ের উরুর এবং হাতের পেশীর অসাড়ভাব দেখা যায়। হাত পা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়, রোগী হাতে করে ভাত মুখে দিতে পারে না। হৃদপিন্ডের ক্রিয়ার অসম্পূর্ণতা এবং তার বৃদ্ধি অনেক রোগীতে হয়ে থাকে।
২। ফোলা বেরিবেরিঃ
এতে প্রথমে দুই পা ফোলে, পরে মুখ ও অন্যান্য অঙ্গ ফোলে। হৃদপিন্ড আক্রান্ত হলে ব্যাধি গুরুতর আকার ধারণ করে।