গলার দুই পার্শ্বে বাদামের মত দুটি গ্রন্থি আছে, একে টনসিল বলে । টনসিল দেহে পাহারাদার এর কাজ করে এবং দেহের বিভিন্ন কার্যক্রমে অবদান আছে। টনসিল দেহে রোগ জীবানু প্রবেশে বাধা প্রদান করে। টনসিল দুর্বল হলে রোগ জীবানু আক্রমণ করতে পারে এবং টনসিল শক্তিশালী হলে জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। টনসিল এর প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলে।
টনসিলের নতুন প্রদাহ ( Acute Tonsilities )
প্রদাহ একটি বা উভয় গ্রন্থিতে হতে পারে। আরক্ত, উত্তাপ, স্ফীতি সেই সাথে জ্বর, গাত্র বেদনা, মাথাধরা, দুর্গন্ধময় শ্বাস, গিলতে এবং শ্লেষ্মা তুলতে কষ্ট এই রোগের প্রধান লক্ষণ। টনসিলাইটিস ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। স্ট্রেপটোকক্কাস হেমোলাইটিকাস নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমন হয়ে থাকে এবং সুপারীর মত বড় হয়। সাধারণত শিশু বেশী আক্রান্ত হয়। যে কোন বয়সের যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিরিক্ত ঠান্ডার মধ্যে রাত জাগা, ঠান্ডা পরিবেশ , ঠান্ডা পানি ও খাবার গ্রহন করে গলায় ঠান্ডা লাগা, পুষ্টির অভাবে শরীরে ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া প্রভৃতি কারনে টনসিলাইটিস হবার আশংকা থাকে।
লক্ষণঃ
১। ঢোক গিলতে ব্যথা লাগে।
২। টনসিল লাল বর্ণের হয় এবং ফুলে উঠে।
৩। উচ্চজ্বর হতে পারে আবার জ্বর কম হতে পারে।
৪। টর্চ লাইট দিয়ে গয়াল্র ভিতরে পরীক্ষা করলে টনসিলের বৃদ্ধি দেখা যাবে।
৫। চোয়ালের নিচে টনসিলের লিম্ফ গ্ল্যান্ড বড় ও ব্যথাযুক্ত হয়।
৬। মাথা ধরা, শ্বাসকষ্ট, গিলতে কষ্ট, মুখ দিয়ে থুথু উঠা, শরীরে ব্যথা, স্বরভঙ্গ প্রভৃতি নানা লক্ষণ দেখা দেয়।
৭। অনেক সময় ব্যথা এত বেশী হয় যে, কোন কিছু গিলতে পারে না।
৮। টনসিলের আক্রমণে নিন্মোক্ত ব্যাধিসমূহ প্রকাশ পেতে পারে।যেমনঃ
ক) টনসিলের চারপাশে প্রদাহ হয়ে এবসেস গঠন করে পেরিটনসিলার এবসেস হতে পারে।
খ) টনসিলের পিছনের দিকে প্রদাহ হয়ে এবসেস গঠন করে রেটরোয়া রিঞ্জিয়াল এবসেস হতে পারে।
গ) জোড়ায় ব্যথা সহ ফুলে উঠতে পারে।
ঘ) টনসিল হতে সরাসরি রক্তে জীবাণু ছড়িয়ে সেপটিমিয়া হতে পারে।
ঙ) কিডনীর সদ্য প্রদাহ থাকতে পারে।
চ) টনসিলের সাথে কানের সাথে যুক্ত নল থাকায় ইনফেকশন কান পর্যন্ত যেতে পারে। বাচ্চাদের এই নল ছোট হওয়ায় যে সব বাচ্চা বা যারা ঘন ঘন সর্দি কাশি বা টনসিলাইটিসে ভোগে তাদের কান পাকা রোগ দেখা যায়।
টনসিলের পুরাতন প্রদাহ ( Chronic Tonsilities )
বার বার টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে ক্রণিক টনসিলাইটিস হয়। আবার কারো প্রথম কয়েকবার আক্রমনের পর রোগের প্রকোপ কমে গিয়ে মৃদুভাবে স্থায়ী হয়ে যায়। প্রথম দিকে টনসিলের আকার বৃদ্ধি পেলেও ধীরে ধীরে আকার ছোট হয়ে যায়। অনেকের টনসিলের উপরে মধ্যে মধ্যে ছিদ্র দেখা যায় এবং এর উপরে দুধের সরের মত সাদা দাগ পড়ে। আবার কয়েকটি দাগ একত্রিত হয়ে বড় দাগে পরিণত হয়। এর নাম ফলিকুলার টনসিলাইটিস।
লক্ষণঃ
১। প্রায়ই টনসিলের প্রদাহ হয়।
২। নিউরোসিস অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
৩। টনসিল বড় হওয়ার কারনে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয়।
৪। অনেকের কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই টনসিলাইটিস হয়।
৫। চোয়ালের লিম্ফ গ্ল্যান্ড বর্ধিত অবস্থায় থাকে এবং শক্ত হয়।
৬। শরীরে তাপ থাকে। বার বার আক্রান্ত হওয়ার কারনে স্বাস্থ্য খারাপ হয় এবং রক্তহীনতা দেখা দিতে পারে।
জটিলতাঃ
টনসিলের পুঁজ পাকস্থলীতে গিয়ে পাকস্থলীতে পুরাতন প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। টনসিলের পুরাতন প্রদাহের সাথে পেটে শূল ব্যথার মত ব্যথা দেখা দিতে পারে। এই রোগের ফলে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস নামক জোড়ায় ব্যাধি উৎপন্ন হতে পারে।
পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
১। সহজ, তরল ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে।
২। ঠান্ডা লাগান যাবে না।
৩। দৈনিক ১ বার saline hot water দিয়ে গার্গল করলে এই অসুখের সম্ভাবনা কম থাকে।