[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 31 বার ]
Category :
১। করোনা কি ?
=> ভাইরাস জনিত সংক্রামক ব্যাধি যা রক্তের অক্সিজেন লেভেল কমিয়ে অথবা রক্ত জমাট করে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। ২০১৯ সালে পৃথিবীতে প্রথম আক্রমণ করে এবং সনাক্ত হয়। ভাইরাসের নাম কোভিড-১৯।
২। কিভাবে ছড়ায় ?
=> চিকিৎসা বিদ্যার রিসার্চ বলে ভাইরাসজনিত রোগগুলো বাতাস, পানি, খাবার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা ইত্যাদি মাধ্যমে একজন থেকে একাধিক ব্যক্তিতে ছড়ায়।
৩। কোন পরিবেশে ছড়ায় ?
=> ২০১৯ সালে যখন করোনা আক্রমণ করে তখন আমরা ভেবেছিলাম এটা শীতপ্রধান দেশে ঠান্ডা পরিবেশে আক্রমণ করে, গরমে আক্রমণ করতে পারবে না। পরে মরুভূমির দেশ সৌদি, তীব্র গরমের দেশ আফ্রিকা সহ অন্যান্য অনেক দেশে আক্রমণ হল। ২০২১ সালে ভারত উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত বাংলাদেশে - শীতের তুলনায় চৈত্র বৈশাখের তীব্র দাবদাহে এর আক্রমণ ১০ গুন বেশী দেখা দিয়েছে। সূতরাং শীত গরম কিছুই নয়, উপযুক্ত পরিবেশে অথবা পরিবেশ অনুযায়ী করোনা ভাইরাস নিজেই পরিবর্তিত হয়ে আক্রমণ করছে।
৪। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ কি কি ?
=> অসংখ্য লক্ষণের মধ্যে সাধারণ বা কমন লক্ষণ হল --
বাহ্যিক লক্ষণ -
মাথাব্যথা, মাথায় যন্ত্রণা করে,
ঘুম কম হতে পারে,
স্বল্প থেকে তীব্র জ্বর,
কাশি,
বুকে চেপে ধরেছে বা বুক ছিড়ে যাচ্ছে এমন অনুভব,
শ্বাসকষ্ট,
এজমা বা হাঁপানি রোগীর মত লক্ষণ প্রকাশ।
হঠাৎ মৃত্যু।
আভ্যন্তরিণ লক্ষণ -
রক্তের অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া,
রক্ত জমাট বাঁধা,
হার্ট স্ট্রোক, ব্রেইন স্ট্রোক,
প্রস্রাবে এলবুমিন,
প্রস্রাবে রক্ত,
কিডনী ফেইলিউর,
৫। কাদের সংক্রমণ হার বেশী ?
=> শুরু থেকে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট বয়সীদের ক্ষেত্রে যেমন ৪০-৮০ বছর বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রমণের হার বেশী।
আমার নিজস্ব রোগী, হাসপাতালে ভর্তি বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য, করোনা আক্রমণের ধরণ - ইত্যাদি তথ্য পর্যবেক্ষণে আমার রিসার্চের ফলাফল হল --
১) যার নিজের এজমা হাঁপানি আছে বা পারিবারিক এজমা হাঁপানি আছে।
২) যারা এসি রুমে বেশী সময় থাকে।
৩) অন্যান্য রোগে দুর্বল রুগ্ন ব্যক্তি
এই ৩ শ্রেনীর মানুষ করোনা সংক্রমণে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে অতিদ্রুত এবং প্রকট আকারে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
অন্যান্যদের করোনা সংক্রামণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল থাকায় তাদের লক্ষণ স্বল্প থেকে মাঝারি হয়ে থাকে। অল্প সংখ্যক রোগী জটিল অবস্থায় আক্রান্ত হয়।
তবে যে ব্যক্তিই করোনায় আক্রান্ত হয়, তার মধ্যে লক্ষণ বা জটিলতা প্রকাশ হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট লাইফ সাইকেল শেষে করোনা ভাইরাস দেহ থেকে চলে যায় অথবা সুপ্তভাবে দেহে অবস্থান করে।
৬। আমাদের সতর্কতা
=>
১। যথা সম্ভব বাহিরে বের না হওয়া, একান্ত বের হতে হলে মুখে মাস্ক পরিধান করা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা।
২। বাহির থেকে ঘরে ফিরে ওযু করা অর্থাৎ, হাত, মুখ, পা ধোয়া। সম্ভব হলে গোসল করা এবং বাহিরের পোষাক খুলে ধুয়ে ফেলা।
৩। পর্যাপ্ত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, সুস্থ জীবন যাপন।
৭। করোনা চিকিৎসা
=> এখনো ঔষধ আবিষ্কার হয়নি, তাই লক্ষণ অনুসারে চিকিৎসা করা দরকার।
৮। চিকিৎসা ব্যবস্থা
সমগ্র বিশ্বে ৫০ টির অধিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচলন আছে। এরমধ্যে ২০ টি পদ্ধতি অনেক মানুষ বিশ্বাস করে। এদের মধ্যে ৩ টি ব্যাপক প্রচলিত।
১) আয়ুর্বেদিক বা গাছপালার প্রাকৃতিক চিকিৎসা - পৃথিবীর আদি চিকিৎসা ব্যবস্থা, মূল ঔষধ সংখ্যা গড়ে ১০০+ তবে ৫০০ এর কম। অল্প কিছু রোগে সফলতা প্রতিষ্ঠিত। সঠিক মাত্রায় প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই। প্রতিবার একত্রে এক কাপ বা একগ্লাস পরিমাণে ঔষধ সেবন করতে হয়। আরো গবেষণা দরকার।
২) এলোপ্যাথি চিকিৎসা - কয়েক শতাব্দি ( হতে পারে কয়েক হাজার বছর ) ধরে প্রচলিত। গত ৩০-৪০ বছরেই সবচেয়ে বেশী উন্নয়ন হয়েছে। মূল ঔষধ সংখ্যা ৫০০+ তবে ১০০০ এর কম। বেশী সংখ্যক রোগে সফলতা প্রতিষ্ঠিত হলেও, প্রচলিত অনেক রোগে এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়, যেমন - কিডনী, লিভার, হার্ট ব্লক, ব্রাডিকার্ডিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, প্যারালাইস, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আমৃত্যু ঔষধ সেবন করতে হয়, বা অকালে মৃত্যু। এবং ঔষধের প্রচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, ফলে এক রোগ ভাল হতে গিয়ে আরেক রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যেমন ব্যথার ঔষধ সেবনে কিডনি ফেইল কমন উদাহরণ। ২০-৩০ টি পর্যন্ত ঔষধ একত্রে সেবন করতে হয়। তথাপি আয়ুর্বেদিক এর অনেক অসাধ্যকে সাধন করছে। চিকিৎসক অনেক দক্ষ। আরো গবেষণা দরকার।
৩) হোমিও চিকিৎসা - গত ২০০ বছর ধরে প্রচলিত। শুরু থেকে এখনো একই রকম টেকসই পদ্ধতি। ঔষধ সংখ্যা নূন্যতম ২০০০, প্রতিটি ঔষধে কমপক্ষে ৩০০ লক্ষণ/রুব্রিক - থাকলে মোট ৬ লক্ষ লক্ষণ/রুব্রিক - চিকিৎসক কে আয়ত্ত্বে আনতে হয় ( বাস্তবিক কেউ মুখস্থ রাখতে পারে না, তাই বিশেষ রেপার্টরী কৌশলে আয়ত্ত্বে আনতে হয় এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হয় )। যে কোন রোগেই কিছু না কিছু লক্ষণ থাকে, শুধুমাত্র লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা, তাই যে কোন রোগেই লক্ষণ ধরে চিকিৎসা দেয়া যায়। চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ ও ঔষধের লক্ষণ ম্যাচ করে দিতে পারলে আরোগ্য নিশ্চিত অন্যথায় ফেল করবে। অর্থাৎ চিকিৎসকের দক্ষতার উপর আরোগ্য নির্ভরশীল। একই সময়ে সাধারণত ১টি মাত্র ঔষধ ১-২০ ফোঁটা মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। ফলে ঔষধের পরমাণ অত্যন্ত কম এবং ঔষধে বাস্তবিক কোন ক্যামিক্যাল ঔষধ থাকে না। মূলত পারমানবিক শক্তিতে কাজ করে। তাই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। যে কোন রোগেই চিকিৎসা করা সম্ভব। আরো গবেষণা এবং চিকিৎসকের দক্ষতা উনয়ন দরকার।
৪) কম্বাইন্ড চিকিৎসা - এলোপ্যাথি ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং রেজিস্ট্যান্স এর কারণে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নানামুখী পর্যালোচনা সাপেক্ষে পৃথিবীর অনেক দেশের মত আমাদের দেশেও সম্প্রতি এলোপ্যাথি ঔষধের সাথে আয়ুর্বেদিক ঔষধ প্রেসক্রাইব এবং সেবনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায়, সরকারী প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হোমিওপ্যাথি ইউনিট খোলা হয়েছে এবং কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে।
খুব শীঘ্রই হোমিওপ্যাথি সহকারে কম্বাইন্ড চিকিৎসা প্রচলনে আমাদের আগাতে হবে বলে আমি মনে করছি। তা না হলে আমরা ভবিষ্যৎ রোগ মহামারি মোকাবিলায় সফল হতে পারব না।
এর পক্ষে যুক্তি,
১) করোনায়, ঘরে বসে এন্টিবায়োটিক সেবনের পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বেশী বেশী মসলা চা খেতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এই মসলা চা এক প্রকার আয়ুর্বেদিক - ইউনানী ঔষধ। নানা মসলা আগুনে জ্বাল দিয়ে ইউনানী ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
২) মানুষ বাঁচার জন্য এই করোনা মহামারিতে এলোপ্যাথি ঔষধের পাশাপাশি হোমিও ঔষধ সেবন করছেন এবং সুফল পাচ্ছেন।
৩) আমি নিজেও অসংখ্য জটিল রোগীতে এলোপ্যাথি ঔষধের পাশাপাশি হোমিও ঔষধ সেবনে - ব্রাডিকার্ডিয়া, হার্টব্লক, প্যারালাইসিস, টিউমার, কিডনী, আরো অনেক রোগে সফলতা পেয়েছি।
*** কম্বাইন্ড চিকিৎসার ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসককে অবশ্যই এলোপ্যাথি ঔষধের উপর দক্ষতা থাকতে হবে, এবং এলোপ্যাথি চিকিৎসককে অবশ্যই হোমিও ঔষধের উপর দক্ষতা থাকতে হবে। অথবা, এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের সমন্বয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এখানে চিন্তা ভাবনার খোরাক রয়েছে।
৯। এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথির পার্থক্য
এলোপ্যাথি হল রোগ ভিত্তিক চিকিৎসা, ঔষধ নাই চিকিৎসা নাই। সম্প্রতি করোনা নতুন রোগ হিসেবে আবির্ভাবে এই মুহুর্তে করোনার জন্য নির্দিষ্ট ঔষধ না থাকায় করোনা মোকাবিলা করতে পারছি না। এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ অনেক উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ, রোগ ও রোগী সম্পর্কে সার্বিক বিষয় তারা অন্য যে কোন প্যাথি বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিদের থেকে বেশী জানে। কিন্তু তাদের কাছে ঔষধ না থাকায় দিতে পারে না। যেমন প্রস্রাবে এলবুমিনুরিয়ার কোন ঔষধ নাই। ব্রাডিকার্ডিয়ার ঔষধ নাই। টিউমারের ঔষধ নাই।
হোমিওপ্যাথি কোন রোগ হিসেবে নয় লক্ষণ হিসেবে ঔষধ দিয়ে থাকে। যে কোন রোগেই কিছু না কিছু লক্ষণ থাকবেই। যে চিকিৎসক যত সুক্ষ্মভাবে রোগী ও ঔষধের লক্ষণ ম্যাচ করতে পারবেন তিনি তত দক্ষ। অন্যথায় তিনি ফেল করবেন। দক্ষতা থাকলে দূরারোগ্য ব্যাধি আরোগ্য সম্ভব।
আমার নিজ অভিজ্ঞতা -
ব্রাডিকার্ডিয়া কয়েক মাসের মধ্যে আরোগ্য লাভ করে।
হার্ট-ব্লক রিং পরানো লাগবে না, কিছুদিনেই গলে দূর হয়ে যাবে।
টিউমার এক থেকে কয়েক মাসে দূর হয়ে যাবে।
ব্রেস্ট টিউমার জরায়ু টিউমারে - ব্রেস্ট জরায়ু কেটে ফেলে দিতে হবে না।
শ্বাসকষ্ট ১৫ মিনিটে দূর হয়ে যায়, অক্সিজেন নেবুলাইজার কিছুই লাগে না।
এবার খেয়াল করুন,
১ম রোগী - মাথা ব্যথা, মাথাব্যথার কারণ - রাত জেগেছেন - ঔষধ - NV
২য় রোগী - মাথা ব্যথা, কারণ - অধিক লেখাপড়া করেন - ঔষধ - KP
৩য় রোগী - মাথা ব্যথা, কারণ - ৭ দিন মলত্যাগ হয় না - ঔষধ - Br
৪র্থ রোগী - শুষ্ক কাশি, জ্বর, প্রচুর পানি পান করে - ঔষধ - Br
৫ম রোগী - করোনা লক্ষণ, শুষ্ক কাশি, জ্বর, প্রচুর পানি পান করে - ঔষধ - Br
৬ষ্ঠ রোগী - করোনা লক্ষণ, ঘড়ঘড় কাশি, জ্বর, ম্যাসেজ করলে ভাল লাগে - ঔষধ - RT
৭ম রোগী - করোনা লক্ষণ, শ্বাসকষ্ট - ঔষধ BO, OS, JU,
৮ম রোগী - প্যারালাইসিস, ডান পাশ - ঔষধ - Ca,
৯ম রোগী - প্যারালাইসিস, বাম পাশ - ঔষধ - La,
এখানে রোগ একই অথচ আলাদা লক্ষণে আলাদা ঔষধ। আবার আলাদা রোগে লক্ষণ মিলে একই ঔষধ।
এই রোগী এলোপ্যাথি চিকিৎসায় গেলে ৩ জনকেই, মাথাব্যথার জন্য - প্যারাসিটামল দেয়া হবে।
আর জ্বর ও অন্যান্য রোগী পাবেন প্যারাসিটামল + এন্টিবায়োটিক।
অর্থাৎ, এলোপ্যাথি চিকিৎসক অনেক অনেক দক্ষ, বিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও - ঔষধ নাই চিকিৎসা নাই। এলোপ্যাথি রোগ ভিত্তিক চিকিৎসা।
আর, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক তুলনামূলক কম দক্ষ, সত্ত্বেও - ঔষধ আছে, চিকিৎসা আছে। হোমিওপ্যাথি লক্ষণ/রুব্রিক ভিত্তিক চিকিৎসা তাই করোনা সহ ভবিষ্যতের যে কোন রোগেই হোমিওচিকিৎসা সম্ভব। তবে সেজন্য দক্ষ চিকিৎসক লাগবে যিনি লক্ষণ ম্যাচ করতে পারবেন। এজন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের এলোপ্যাথিদের মত উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং ডেডিকেটেড প্রফেশনাল হওয়া প্রয়োজন।
১০। করোনা চিকিৎসায় সফলতা
১৮৮৫ সালে প্রফেসর লুই পাস্তুর ( কেমিস্ট ) কুকুরের স্পাইনাল কর্ডের টিস্যু থেকে জলাতংক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। প্রথম প্রয়োগ করেন যোসেফ নামের ৯ বছর বয়স্ক বালকের দেহে এবং সফল হন। তিনি ডাক্তার বা হয়েও টিকা আবিষ্কার করে ফেললেন।
তেমনি আজকের এই করোনা রোগের ঔষধ টিকা কেউ না কেউ সফলভাবে আবিষ্কার করবেন, আমার বিশ্বাস, হতে পারে ডাক্তার, হতে পারে পদার্থবিদ, হতে পারে কেমিস্ট।
তাই কাউকে অবজ্ঞা করা যাবে না, হতে পারে কোন এক সাধারণ মানুষ আবিষ্কার করে ফেলবে এর ঔষধ।
১১। করোনা চিকিৎসায় আমার সফলতা
হোমিও রিসার্চ বেজড চিকিৎসা ব্যবস্থা। তাই এলোপ্যাথি ফেরত এবং অন্য হোমিও ডাক্তার ফেরত রোগীদের চিকিৎসা চ্যালেঞ্জ আমি নিয়ে থাকি এবং রিসার্চ করি।
যেমন- এজমা হাঁপানি, ব্রাডিকার্ডিয়া, হার্ট-ব্লক, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার সমস্যা, কিডনী, জ্বর, টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, জরায়ু টিউমার ইত্যাদি আরো অনেক জটিল রোগে কোন প্রকার অপারেশন ছাড়াই কয়েক মাস বা বছর ধরে ঔষধ সেবনে রোগী আরোগ্য লাভ করছে।
ফ্যাটি লিভার স্টেজ-২ মুমুর্ষ রোগী কয়েক মাসে সম্পুর্ণ হয়ে উঠে।
একবার ভেবে দেখেছেন যে কুমারী মেয়ের ব্রেস্ট কেটে ফেলে দিতে হয়, জরায়ু কেটে ফেলে দিতে হয়, তার কি আর সন্তান হবে, কে তাকে বিয়ে করবে ? এই পঙ্গু জীবন নিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। হোমিও চিকিৎসায় ব্রেস্ট জরায়ু টিউমার কেটে ফেলতে হয় না। কয়েক মাসেই সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। নারী তার পুর্ণতা নিয়েই বেঁচে থাকতে পারে।
যে রোগী দিনে ৪ বার নেবুলাইজার গ্যাস নেয়, প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, এমন রোগীদের ১ম দিন থেকেই নেবুলাইজার, ইনহেলার আর নিতে হয় না।
প্রায় ১৫ মিনিটেই শ্বাসকষ্ট দূর হয়ে যায়।
তারই ধারাবাহিকতায়, করোনা সংক্রমনে আমার নিজের রোগীদের লক্ষনভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে আসছি। আমার রোগীদের রেফারেন্সে আরো অনেক রোগী পেয়েছি, এদের মধ্যে কিছু রোগি চেম্বারে আসতে চায় না, তারা মোবাইলে কথা বলে ঔষধ নিয়েছেন। যারা চেম্বারে এসেছেন, তারা তাদের ছবি তুলতে বা পরিচয় তথ্য দিতে নারাজ।
এরই মধ্যে গত বছর সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল রোগী ছিল, ফরিদপুর সরকারি হাসপাতালে মুমুর্ষ অবস্থায় আইসিইউতে থাকা --
নুরুল ইসলাম বয়স ৬০ বছর।
শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে ক্ষত
১৯-০৮-২০২০ইং
রিপোর্ট - রোগীর দেহে করোনা ( - ) নেগেটিভ এসেছে।
শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে ক্ষত প্রদাহ।
রোগীর নাকে ও মুখে হাই-ফ্লো ( ১৫লি. ) অক্সিজেন নজেল লাগানো অবস্থায় শরীরের অক্সিজেন লেভেল ৮০ উঠানামা করে।
মুখের নজেল খুলে দিলেই রোগীর দেহের অক্সিজেন লেভেল ৬০ হয়ে যায়।
৫ দিন ধরে খাওয়া নাই, পায়খানা হয় না। রোগীর প্রচণ্ড মাথা ব্যথা আর পেট ফুলে আছে, রোগী খুবই অস্বস্থি বোধ করছেন।
২০-০৮-২০২০ইং
এ পর্যন্ত ঔষধ খাওয়ানো হল ৫ ডোজ।
রাত ১২ টায় দেখা গেল মুখের অক্সিজেন নজেল খুলে দিলেও রোগীর দেহের অক্সিজেন লেভেল ৮০ এর নীচে নামে না।
ঢুস দিয়ে পায়খানা করানো হল- এরপর, মাথা ব্যথা চলে গেছে।
২১-০৮-২০২০ইং
দেহের অক্সিজেন লেভেল ৮০ এর নীচে নামে না। ৯০+ থাকে।
নাকের হাই-ফ্লো অক্সিজেন নজেল খুলে দেয়া হয়েছে, শুধুমাত্র মুখে মাস্ক অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। এর পরেও রোগীর অক্সিজেন লেভেল ৮০-৯০ থাকছে।
২৩-০৮-২০২০ইং
রোগীর দেহের অক্সিজেন লেভেল ৯২+, এবার অক্সিজেন ফ্লো ১৫লি থেকে কমিয়ে ১০লি করা হয়েছে।
রোগীর শ্বাসকষ্ট একেবারেই নাই, কাশি একেবারেই নাই।
রোগী খাবার খাচ্ছে, ঠিকমত টয়লেট করছে, ভাল আছে সার্বিকভাবে।
২৬-০৮-২০২০ইং
রোগীর দেহের অক্সিজেন লেভেল ৯২+, এবার অক্সিজেন ফ্লো ১০লি থেকে গত ২ দিনে অল্প অল্প করে কমিয়ে ৩লি করা হয়েছে।
রোগীর শ্বাসকষ্ট একেবারেই নাই, কাশি একেবারেই নাই।
রোগী খাবার খাচ্ছে, ঠিকমত টয়লেট করছে, ভাল আছে সার্বিকভাবে।
অক্সিজেন ছাড়া ১ ঘন্টা থাকতে পারে।
রিপোর্ট - আজ রোগীর দেহে করোনা + এসেছে।
২৭-০৮-২০২০ইং
শ্বাসকষ্ট একদম নাই। অক্সিজেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
৩১-০৮-২০২০ইং
রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
১.৫ মাস পর এক্স-রে রিপোর্ট - ফুসফুসে ক্ষত নাই।
এ বছর ২০২১ সালে ক্রিটিক্যাল রোগী ছিলেন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং তার স্ত্রী ঢাকার সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র নার্স।
করোনা পজেটিভ রিপোর্ট নিয়ে এসেছিলেন, চিকিৎসা নিয়ে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
বিস্তারিত ফেসবুক পেইজ - অব্যর্থ হোমিও - তে পাবেন।
১২। আরো রোগীলিপি
দুই বছরে চিকিৎসা দিয়েছি অনেক তবে রোগীরা নাম পরিচয় গোপন রেখেছেন। কেউ চেম্বারে এসেছেন, কেউ মোবাইলে কথা বলে লোক দিয়ে ঔষধ নিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী কলেরা মহামারীতে কোন বাড়িতে কলেরা হলে আশে পাশের কেউ সেই বাড়িতে যেত না ভয়ে। দাফন করার মানুষ পাওয়া যেত না। একই আতংকে করোনা রোগীরা ভয়ে পরিচয় দিয়ে চায় না এবং কাউকে জানাতে চায় না।
১৩। করোনায় আমার পর্যবেক্ষণ
=>
১) করোনা রোগীতে এজমা হাঁপানী রোগীর মত ফুসফুসে প্রচুর শ্লেষ্মা জমে রোগীকে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে দেয় না। ফলে রোগীর মৃত্যু হয়। রোগীর মনে হয়, তার বুক কেউ চেপে ধরেছে অথবা টেনে ছিড়ে ফেলছে। সাথে কাশি থাকতে পারে নাও থাকতে পারে।
২) করোনা রোগীর দেহে রক্ত জমাট করে স্ট্রোক/ থ্রম্বোসিস ঘটিয়ে রোগীকে মেরে ফেলে।
১৪। করোনায় আমার সফলতা
=>
বিগত বছরে এজমা হাঁপানি ও স্ট্রোকের রোগীর চিকিৎসার অভিজ্ঞতা এবং তাদের জন্য ব্যবহৃত আমার নিজস্ব রিসার্চ মেডিসিন করোনা লক্ষণে আরো ডেভেলপ করে করোনায় কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট লক্ষণে প্রয়োগ করে আশাতীত ফলাফল পেয়েছি।
রোগীদের মুখের ভাষ্য - " এটাতো ম্যাজিক - ১০-১৫ মিনিটে অক্সিজেন নেবুলাইজার ছাড়াই শ্বাসকষ্ট দূর। "
আমার ফলাফলঃ
১৫ মিনিটে শ্বাসকষ্ট নাই।
২-১২ ঘন্টায় বুকের সমস্ত কফ নাই।
২-২৪ঘন্টায় জ্বর নাই।
৩ দিন পর অক্সিজেন বা আইসিইউ লাগবে না।
১-২ মাসে ফুসফুসের ড্যামেজ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়।
১৫। করোনা সম্পর্কে কিছু ভূল প্রচারণা
১) ঘন ঘন হাত ধোয়া - আপনি ঘরে থাকলে কেন অহেতুক বার বার হাত ধুয়ে ঠান্ডা লাগাবেন ?
২) ঘন ঘন মশলা চা, লেবু চা খাওয়া - কোন কিছুই বেশী বাড়া বাড়ি ভাল নয়, ফলাফল মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক সমস্যা।
৩) ঘন ঘন গরম পানি খাওয়া - শীতকালে গরম পানি শরীরে সহ্য হয়, কিন্তু গরমকালে তীব্র দাবদাহে গরম পানি লিভার ড্যামেজ করে দেয়। করোনা রোগীদের বড় অংশ লিভার ড্যামেজ হয়ে মারা যাচ্ছে। ( রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য )।
১৬। করোনা সম্পর্কে সঠিক প্রচার
১) আপনি ঘরে থাকলে বার বার হাত ধোবেন না।
২) যথা সম্ভব বাহিরে বের না হওয়া, একান্ত বের হতে হলে মুখে মাস্ক পরিধান করা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা।
৩) বাহির থেকে ঘরে ফিরে ওযু করা অর্থাৎ, হাত, মুখ, পা ধোয়া। সম্ভব হলে গোসল করা এবং বাহিরের পোষাক খুলে ধুয়ে ফেলা।
৪) বেশী লোকের সমাগম, অফিস, বাজার হতে ফিরে গোসল করে নিন।
৫) বাহিরে থাকাকালীন নাক, চোখ, মুখে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না।
৬) বাসি পচা খাবেন না।
৭) রাত জাগবেন না।
৮) এজমা হাঁপানি রোগীদের খেয়াল রাখুন, লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা নিন।
৯) পর্যাপ্ত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, সুস্থ জীবন যাপন।
১০) অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত লেবু খেয়ে বাজারে লেবুর দাম বাড়াবেন না, নিজেও মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক বানাবেন না। লেবুতে প্রচুর এসিড রয়েছে, যা বেশী পরিমাণে খেলে পাতলা পায়খানা সহ নানামুখী সমস্যা হতে পারে। বাড়াবাড়ি কোন কিছুই ভাল না।
১১) ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চলুন।
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp